Skip to content

দাঁতের ফিলিং কেন করা হয়?

দাঁতের ফিলিং কেন করা হয়?
Rate this post

আপনার দাঁতে কি গর্ত হয়েছে? ঠান্ডা বা মিষ্টি কিছু খেলেই কি ব্যথা করে? নাকি চিবানোর সময় অস্বস্তি হয়? এই সমস্যাগুলোর সমাধান হতে পারে দাঁতের ফিলিং। ফিলিং মূলত দাঁতের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনরুদ্ধার করে এবং আরও ক্ষয় রোধ করে। এটি একটি সাধারণ ও কার্যকরী চিকিৎসা পদ্ধতি, যা দাঁত বাঁচাতে সাহায্য করে। তবে মনে রাখবেন, শুধুমাত্র একজন নিবন্ধিত ডেন্টিস্টই পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ধারণ করতে পারেন আপনার ফিলিং প্রয়োজন কিনা।

দাঁতের ফিলিং কেন প্রয়োজন?

দাঁতের ফিলিং করার প্রধান কারণগুলো হলো:

  • দাঁতের ক্ষয় (ক্যাভিটি): ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে দাঁতের এনামেল নষ্ট হয়ে গর্ত তৈরি হয়। ফিলিং সেই গর্ত ভরাট করে দাঁতকে রক্ষা করে।
  • দাঁত ভাঙা বা চিড়: দুর্ঘটনা বা শক্ত কিছু কামড়ানোর কারণে দাঁতের অংশ ভেঙে গেলে ফিলিং দিয়ে পুনর্গঠন করা যায়।
  • সংবেদনশীলতা: দাঁতের গোড়া উন্মুক্ত হয়ে গেলে ঠান্ডা-গরমে ব্যথা হতে পারে। ফিলিং সেই অংশ ঢেকে সংবেদনশীলতা কমায়।
  • পুরনো ফিলিং প্রতিস্থাপন: পুরনো ফিলিং নষ্ট হয়ে গেলে বা সেটির নিচে আবার ক্ষয় হলে নতুন ফিলিং প্রয়োজন হয়।

ফিলিং দাঁতের স্বাভাবিক আকৃতি, কার্যক্ষমতা ও সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনে। এটি দাঁত তোলার বা জটিল চিকিৎসার প্রয়োজন কমিয়ে দেয়।

কখন বুঝবেন আপনার ফিলিং দরকার?

নিচের লক্ষণগুলো থাকলে দাঁতের ফিলিং প্রয়োজন হতে পারে। তবে শুধুমাত্র ডেন্টিস্টের পরীক্ষাই নিশ্চিত করতে পারে।

লক্ষণ/অবস্থা ফিলিং উপযুক্ত কিনা বিকল্প চিকিৎসা
ছোট গর্ত, কোনো ব্যথা নেই হ্যাঁ, ফিলিং করানো যেতে পারে প্রায়ই ফিলিং যথেষ্ট
ঠান্ডা/মিষ্টিতে সামান্য ব্যথা হ্যাঁ, ফিলিং দিয়ে সমাধান সম্ভব সংবেদনশীলতা কমাতে বিশেষ টুথপেস্ট
গভীর ক্ষয়, রাতে ব্যথা, ফোলা না, ফিলিং যথেষ্ট নয় রুট ক্যানেল বা দাঁত তোলার প্রয়োজন হতে পারে
দাঁত ভাঙা কিন্তু স্নায়ু অক্ষত হ্যাঁ, ফিলিং বা ক্রাউন প্রয়োজন বড় ভাঙনে ক্রাউন বেশি উপযুক্ত
দাঁতের গোড়ায় পুঁজ বা ফিস্টুলা না, ফিলিং দিয়ে হবে না রুট ক্যানেল বা দাঁত তোলা

ফিলিং করার প্রক্রিয়া কেমন?

ফিলিং সাধারণত এক সিটিতেই সম্পন্ন হয়। প্রক্রিয়াটি নিম্নরূপ:

  1. পরীক্ষা: ডেন্টিস্ট দাঁত ও আশপাশের অংশ পরীক্ষা করেন, প্রায়ই এক্স-রে নেন।
  2. অ্যানেস্থেসিয়া: প্রয়োজনে স্থানীয় অ্যানেস্থেসিয়া দিয়ে দাঁতের চারপাশ অসাড় করে দেওয়া হয়, যাতে ব্যথা না লাগে।
  3. ক্ষয় অপসারণ: ড্রিল বা লেজারের সাহায্যে দাঁতের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পরিষ্কার করা হয়।
  4. গহ্বর প্রস্তুত: পরিষ্কার করা জায়গাটি জীবাণুমুক্ত ও শুকানো হয়।
  5. ফিলিং স্থাপন: উপকরণ (কম্পোজিট, অ্যামালগাম ইত্যাদি) স্তরে স্তরে বসিয়ে বিশেষ আলো দিয়ে শক্ত করা হয় (কম্পোজিটের ক্ষেত্রে)।
  6. শেপিং ও পলিশিং: ফিলিংকে দাঁতের আকৃতি অনুযায়ী ঢালাই করে মসৃণ করা হয়, যাতে কামড় ঠিক থাকে।

পুরো প্রক্রিয়াটি ২০-৬০ মিনিট সময় নেয়, জটিলতার উপর নির্ভর করে।

ফিলিং এর উপকরণ ও স্থায়িত্ব

বাংলাদেশে প্রচলিত ফিলিং উপকরণগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • অ্যামালগাম (রূপালি ফিলিং): সস্তা ও টেকসই, কিন্তু রঙ দাঁতের সাথে মেলে না। পেছনের দাঁতে ব্যবহার হয়। স্থায়িত্ব: ১০-১৫ বছর।
  • কম্পোজিট রেজিন (দাঁতের রঙের ফিলিং): দেখতে প্রাকৃতিক, সামনের দাঁতের জন্য ভালো। তবে অ্যামালগামের চেয়ে কম টেকসই এবং দাম বেশি। স্থায়িত্ব: ৫-১০ বছর।
  • গ্লাস আয়োনোমার: ফ্লোরাইড নিঃসরণ করে, শিশু ও সংবেদনশীল দাঁতের জন্য উপযোগী। তবে দুর্বল, সাধারণত অস্থায়ী বা ছোট ক্যাভিটিতে ব্যবহার হয়। স্থায়িত্ব: ৩-৫ বছর।

ডেন্টিস্ট আপনার দাঁতের অবস্থা, ক্যাভিটির আকার ও অবস্থান, এবং বাজেট বিবেচনা করে উপযুক্ত উপকরণ নির্বাচন করেন। কোনো একটি উপকরণ সব পরিস্থিতিতে সেরা নয়।

ফিলিং না করলে কী হতে পারে?

সময়মতো ফিলিং না করালে দাঁতের ক্ষয় আরও গভীরে ছড়াতে পারে। সম্ভাব্য জটিলতাগুলো হলো:

  • সংক্রমণ বৃদ্ধি: ব্যাকটেরিয়া দাঁতের ভেতরের স্নায়ু ও টিস্যুতে পৌঁছে যায়, ফলে রুট ক্যানেলের প্রয়োজন হয়।
  • দাঁত দুর্বল হয়ে ভেঙে যাওয়া: বড় গর্ত দাঁতের গঠনকে দুর্বল করে, যা চিবানোর সময় ভেঙে যেতে পারে।
  • দাঁত তোলার প্রয়োজন: একবার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে দাঁত বাঁচানো সম্ভব নাও হতে পারে।
  • পাশের দাঁতেও ক্ষয়: খাবার জমে থাকলে সংক্রমণ আশপাশের দাঁতকেও আক্রান্ত করতে পারে।

অতএব, দাঁতে সামান্য সমস্যা দেখলেই দেরি না করে ডেন্টিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

বাংলাদেশে দাঁতের ফিলিং-এর খরচ কত?

দাঁতের ফিলিং-এর খরচ বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়: হাসপাতালের শ্রেণি, ডেন্টিস্টের ফি, ব্যবহৃত উপকরণ, ক্যাভিটির আকার ও জটিলতা। নিচে একটি আনুমানিক ধারণা দেওয়া হলো। বাস্তব মূল্য জানতে সরাসরি চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।

আইটেম আনুমানিক মূল্য (বাংলাদেশি টাকা) মন্তব্য
অ্যামালগাম ফিলিং (ছোট ক্যাভিটি) ৩০০ – ৮০০ সাধারণত পেছনের দাঁতে ব্যবহৃত হয়
কম্পোজিট ফিলিং (ছোট ক্যাভিটি) ৫০০ – ১৫০০ দাঁতের রঙের, সামনের দাঁতের জন্য জনপ্রিয়
কম্পোজিট ফিলিং (বড় বা জটিল) ২০০০ – ৫০০০ আকার ও অবস্থানভেদে খরচ বাড়ে
গ্লাস আয়োনোমার ফিলিং ৪০০ – ১২০০ শিশু ও অস্থায়ী ফিলিংয়ে ব্যবহার
সরকারি ডেন্টাল কলেজে ফিলিং ১০০ – ৫০০ সরকারি হাসপাতালে খরচ অনেক কম, তবে সময় বেশি লাগতে পারে

মনে রাখবেন: উপরোক্ত মূল্যগুলো আনুমানিক। হাসপাতালের ক্যাটাগরি, ডেন্টিস্টের অভিজ্ঞতা ও অতিরিক্ত পরীক্ষা (যেমন এক্স-রে) খরচ বাড়াতে পারে। চিকিৎসা শুরু করার আগে খরচ নিশ্চিত করে নিন।

বিভাগ অনুযায়ী ডেন্টিস্ট ও ডেন্টাল ক্লিনিক

আপনার এলাকায় একজন ভালো ডেন্টিস্ট খুঁজতে নিচের তালিকাটি ব্যবহার করতে পারেন। বিভাগ অনুযায়ী যাচাইকৃত ডেন্টিস্ট ও ক্লিনিকের তথ্য পাওয়া যায়।

বিভাগ ডেন্টাল তালিকা
Dhaka ঢাকায় যাচাইকৃত ডেন্টিস্ট
Chattogram চট্টগ্রামে জনপ্রিয় ডেন্টিস্ট
Khulna খুলনায় যাচাইকৃত ডেন্টিস্ট
Rajshahi রাজশাহীতে জনপ্রিয় ডেন্টিস্ট
Rangpur রংপুরে যাচাইকৃত ডেন্টিস্ট
Sylhet সিলেটে ডেন্টিস্ট খুঁজুন
Barishal বরিশালে ডেন্টিস্ট
Mymensingh ময়মনসিংহে দাঁতের ডাক্তার

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

ফিলিং করার সময় কি ব্যথা লাগে?

সাধারণত ফিলিং করার আগে দাঁতের চারপাশে স্থানীয় অবশ করার ওষুধ দেওয়া হয়, তাই দাঁতে তেমন ব্যথা বোঝা যায় না। ওষুধের কারণে কিছুক্ষণের জন্য ঠোঁট বা গাল ঝিনঝিন করতে পারে, যা স্বাভাবিক। অবশের প্রভাব কেটে গেলে কিছুটা সংবেদনশীলতা বা হালকা অস্বস্তি হতে পারে, তবে এটি সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যে কমে যায়। যদি ব্যথা持续 থাকে বা বাড়তে থাকে, তবে দ্রুত ডেন্টিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ফিলিং করার পর কতক্ষণ পরে খাওয়া-দাওয়া করা যায়?

কোন উপকরণ দিয়ে ফিলিং করা হলো তার ওপর এটি নির্ভর করে। কম্পোজিট বা সাদা ফিলিং সাধারণত আলো দিয়ে শক্ত করা হয়, তাই সেক্ষেত্রে অনেক ডেন্টিস্ট বলেন এক ঘণ্টা পর খাওয়া যায়। তবে অবশের ওষুধ সম্পূর্ণ কেটে যাওয়ার আগে খাওয়া এড়ানো ভালো, কারণ তখন গাল বা জিভ কেটে যেতে পারে। আর অ্যামালগাম বা রূপালী ফিলিং হলে তা সম্পূর্ণ শক্ত হতে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তাই ডেন্টিস্ট যেটি নির্দেশ দেবেন, সেটিই মেনে চলা নিরাপদ।

ফিলিং করানোর পর দাঁতের বিশেষ যত্ন কীভাবে নেব?

ফিলিং করার মানে এই নয় যে চিকিৎসা শেষ, বরং সঠিক যত্ন না নিলে ফিলিংয়ের নিচে বা পাশে আবার ক্ষয় হতে পারে। প্রতিদিন দিনে দুবার ফ্লোরাইড টুথপেস্ট দিয়ে ব্রাশ করা, ফ্লস করা, এবং মিষ্টি বা আঠালো খাবার কম খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। দাঁতের কোনো জায়গায় খাবার আটকে থাকলে ফিলিং-এর প্রান্তে জীবাণু জমতে পারে, তাই নিয়মিত ডেন্টিস্টের কাছে চেকআপ করানো ভালো। কঠিন কিছু কামড়ানো বা দাঁত দিয়ে বোতলের ক্যাপ খোলার অভ্যাস ফিলিং-এর ক্ষতি করতে পারে।

ফিলিং করালেই কি দাঁতের ক্ষয় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে?

ফিলিং দাঁতের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনরুদ্ধার করে এবং দাঁতের ভেতরের স্নায়ুকে রক্ষা করে, তবে এটি ভবিষ্যতে ক্ষয় হবে না এমন নিশ্চয়তা দেয় না। ফিলিংয়ের চারপাশে নতুন করে ক্যাভিটি তৈরি হতে পারে যদি মুখের স্বাস্থ্যবিধি ঠিক না থাকে। প্রচুর চিনিযুক্ত খাবার, অনিয়মিত ব্রাশিং এবং ডেন্টিস্টের নিয়মিত চেকআপ না করলে দাঁতে আবার ক্ষয় শুরু হতে পারে। তাই ফিলিং কেবল একটি মেরামত, আর দাঁত ভালো রাখার মূল দায়িত্ব আপনার দৈনন্দিন যত্নের ওপর।

দাঁতে খুব বেশি ক্ষয় হলে কি ফিলিং করা সম্ভব?

সব ক্ষয়ই ফিলিং দিয়ে মেরামত করা যায় না। যদি ক্ষয় দাঁতের ভেতরের স্নায়ু বা মূল পর্যন্ত পৌঁছে যায়, তাহলে শুধু ফিলিং যথেষ্ট হয় না; তখন রুট ক্যানেল বা অন্য কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। ডেন্টিস্ট এক্স-রে করে দেখবেন ক্ষয় কতটা গভীর এবং দাঁতের স্নায়ু জীবিত কিনা। যদি দাঁতের গোড়া সুস্থ থাকে এবং ক্ষয়ের পরিমাণ কম হয়, তবে সাধারণত ফিলিং দিয়েই কাজ হয়ে যায়। তাই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে অবশ্যই একজন নিবন্ধিত ডেন্টিস্টের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

তথ্যসূত্র

উপরের তথ্যসূত্রগুলো আন্তর্জাতিক জার্নাল, সরকারি স্বাস্থ্য সংস্থা বা স্বীকৃত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া:

Rate this post