Skip to content

পেরিয়াপিক্যাল এক্স-রে (Periapical X-Ray) কী ও কেন করা হয়?

পেরিয়াপিক্যাল এক্স-রে (Periapical X-Ray) কী ও কেন করা হয়?
Rate this post

দাঁতে ব্যথা বা মাড়ি ফোলা নিয়ে চিন্তিত? অনেক সময় দাঁতের উপরের অংশ দেখতে ভালো থাকলেও শিকড় বা চোয়ালের হাড়ে সমস্যা থাকতে পারে। পেরিয়াপিক্যাল এক্স-রে এমন একটি সহজ ও দ্রুত ডেন্টাল ইমেজিং পদ্ধতি যা দাঁতের পুরো দৈর্ঘ্য (মুকুট থেকে শিকড়ের ডগা), আশপাশের হাড় ও সম্ভাব্য সংক্রমণ স্পষ্টভাবে দেখায়। এই নিবন্ধে জানবেন এটি কী, কেন করা হয়, কীভাবে হয় এবং বাংলাদেশে এর খরচ কেমন।

পেরিয়াপিক্যাল এক্স-রে কী?

পেরিয়াপিক্যাল এক্স-রে হল এক ধরনের ডেন্টাল এক্স-রে যা একটি নির্দিষ্ট দাঁতের পুরো দৈর্ঘ্যের ছবি তোলে। ‘পেরিয়াপিক্যাল’ শব্দের অর্থ দাঁতের শিকড়ের চারপাশের এলাকা। এই এক্স-রেতে দাঁতের মুকুট, শিকড়, এবং শিকড়ের ডগা ঘিরে থাকা চোয়ালের হাড় স্পষ্ট দেখা যায়। অন্য ডেন্টাল এক্স-রে যেমন প্যানোরামিক এক্স-রে পুরো মুখের একটি বড় ছবি দেয়, কিন্তু পেরিয়াপিক্যাল এক্স-রে খুবই ফোকাসড—এক বা দুটি দাঁতের বিস্তারিত দেখার জন্য এটি ব্যবহৃত হয়। ডেন্টিস্টরা এই ছবি দেখে দাঁতের শিকড়ের সংক্রমণ, ফোড়া (abscess), সিস্ট, হাড়ের ক্ষয়, বা ফ্র্যাকচার শনাক্ত করতে পারেন।

কেন পেরিয়াপিক্যাল এক্স-রে করা হয়?

দাঁতের চিকিৎসায় পেরিয়াপিক্যাল এক্স-রে নানা কারণে প্রয়োজন হয়। নিচে কয়েকটি সাধারণ কারণ উল্লেখ করা হলো:

  • রুট ক্যানেল থেরাপি: দাঁতের স্নায়ুতে সংক্রমণ হলে রুট ক্যানেল করার আগে ও পরে শিকড় এবং চারপাশের হাড়ের অবস্থা জানতে এই এক্স-রে অপরিহার্য।
  • দাঁতের শিকড়ের সংক্রমণ ও ফোড়া: দাঁতের গোড়ায় পুঁজ জমলে বা ফোড়া হলে তা শনাক্ত করতে সাহায্য করে।
  • সিস্ট বা টিউমার: চোয়ালের হাড়ে কোনো সিস্ট বা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি আছে কিনা তা দেখা যায়।
  • দাঁতের ফ্র্যাকচার: দাঁতে ফাটল বা শিকড় ভেঙে গেলে (যা সাধারণ পরীক্ষায় ধরা পড়ে না) এটি নিশ্চিত করে।
  • ইমপ্লান্ট পরিকল্পনা: দাঁত প্রতিস্থাপনের (ডেন্টাল ইমপ্লান্ট) আগে হাড়ের ঘনত্ব ও গঠন মূল্যায়নে ব্যবহার করা হয়।
  • আটকে থাকা দাঁত: যদি কোনো দাঁত মাড়ির নিচে আটকে থাকে, তার অবস্থান বুঝতে সাহায্য করে।

পরীক্ষাটি কীভাবে করা হয়?

পেরিয়াপিক্যাল এক্স-রে করার প্রক্রিয়া খুবই সহজ ও দ্রুত। নিচে ধাপগুলো বর্ণনা করা হলো:

  1. রোগীকে ডেন্টাল চেয়ারে বসানো হয় এবং একটি সীসার এপ্রোন ও থাইরয়েড কলার পরানো হয় (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।
  2. ডেন্টিস্ট বা টেকনিশিয়ান একটি ছোট এক্স-রে ফিল্ম বা ডিজিটাল সেন্সর রোগীর মুখের ভেতরে, দাঁতের পেছনে নির্দিষ্ট স্থানে বসিয়ে দেন।
  3. রোগীকে একদম স্থির রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। তারপর এক্স-রে মেশিনটি কয়েক সেকেন্ডের জন্য এক্স-রে রশ্মি ছেড়ে দেয়।
  4. সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যথা হয় না—শুধু ফিল্ম বা সেন্সর মুখের ভেতরে থাকার কারণে কিছুটা অস্বস্তি হতে পারে।
  5. ফলাফল প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই পাওয়া যায়, বিশেষ করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে মনিটরে ছবি দেখা যায়। ফিল্ম পদ্ধতিতেও কিছু মিনিটের মধ্যে ছবি পাওয়া যায়।

পেরিয়াপিক্যাল এক্স-রে কি নিরাপদ?

হ্যাঁ, পেরিয়াপিক্যাল এক্স-রে অত্যন্ত নিরাপদ। এতে ব্যবহৃত বিকিরণের মাত্রা খুবই কম—একটি সাধারণ চেস্ট এক্স-রের তুলনায় অনেক কম, এমনকি প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে আমরা প্রতিদিন যে বিকিরণ পাই (যেমন সূর্য, মাটি) তার কাছাকাছি। ডেন্টিস্ট্রিতে ‘ALARA’ নীতি (As Low As Reasonably Achievable) মেনে চলা হয়, অর্থাৎ প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে সর্বনিম্ন বিকিরণ ব্যবহার করা হয়।

গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে সতর্কতা হিসেবে ডেন্টিস্টকে জানানো উচিত। প্রয়োজনে এক্স-রে পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে বা অতিরিক্ত সুরক্ষা (যেমন ডাবল এপ্রোন) ব্যবহার করা হয়। শিশুদের জন্যও একই সতর্কতা প্রযোজ্য, এবং টেকনিশিয়ানরা শিশুর আকার অনুযায়ী বিকিরণের মাত্রা কমিয়ে দেন। সীসার এপ্রোন ও থাইরয়েড কলার পরা হলে শরীরের অন্যান্য অংশ প্রায় সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকে। কোনো অবস্থাতেই এই পরীক্ষা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বা অননুমোদিত জায়গায় করানো উচিত নয়।

পেরিয়াপিক্যাল এক্স-রে করাতে কত খরচ হয়? (বাংলাদেশ)

বাংলাদেশে পেরিয়াপিক্যাল এক্স-রের খরচ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে—যেমন ল্যাবের মান, ডিজিটাল বা ফিল্ম পদ্ধতি, শহর ও এলাকাভেদে, এবং ক্লিনিকের প্যাকেজ ডিল। নিচে একটি সাধারণ ধারণা দেওয়া হলো:

বাংলাদেশে পেরিয়াপিক্যাল এক্স-রের আনুমানিক খরচ
আইটেম আনুমানিক মূল্য পরিসর (বাংলাদেশী টাকা) মন্তব্য
একটি দাঁতের পেরিয়াপিক্যাল এক্স-রে (ডিজিটাল) ৩০০ – ৮০০ টাকা অধিকাংশ স্বীকৃত ডেন্টাল চেম্বার ও হাসপাতালে এই দাম। ডিজিটাল পদ্ধতি দ্রুত ও কম বিকিরণযুক্ত।
একটি দাঁতের পেরিয়াপিক্যাল এক্স-রে (ফিল্ম/এনালগ) ২০০ – ৫০০ টাকা কম দামি হলেও ছবি দেখতে সময় লাগে; এখনও কিছু পুরনো ক্লিনিকে প্রচলিত।
পূর্ণ মুখের সিরিজ (FMS – পুরো মুখের এক্স-রে) ২০০০ – ৫০০০ টাকা পুরো মুখের অনেক দাঁতের এক্স-রে একসঙ্গে করলে প্যাকেজ মূল্য কম হতে পারে।

মনে রাখবেন: উপরের দামগুলি শুধুমাত্র একটি সাধারণ ধারণা। শহর (ঢাকা, চট্টগ্রাম বনাম অন্যান্য জেলা), ল্যাবের খ্যাতি এবং কোনো ডিসকাউন্ট প্যাকেজের ওপর প্রকৃত মূল্য পরিবর্তিত হতে পারে। পরীক্ষা করানোর আগে সংশ্লিষ্ট ল্যাব বা ক্লিনিক থেকে নিশ্চিত হয়ে নিন।

প্রস্তুতি ও সতর্কতা

পেরিয়াপিক্যাল এক্স-রে করার আগে বিশেষ কোনো প্রস্তুতির প্রয়োজন নেই। তবে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি:

  • গর্ভাবস্থা: আপনি যদি গর্ভবতী হন বা সন্দেহ করেন, তবে অবশ্যই ডেন্টিস্টকে জানান। প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নেওয়া হবে।
  • ধাতব জিনিস: দাঁতে ব্রেস, ইমপ্লান্ট, বা অন্য কোনো ধাতব উপাদান থাকলে তা জানিয়ে দিন—এগুলো ছবিতে বিকৃতি ঘটাতে পারে।
  • গহনা ও চশমা: কানের দুল, নাকের ফুল, চশমা, বা অন্যান্য গহনা খুলে ফেলতে বলা হতে পারে, কারণ এগুলো ছবিতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
  • শিশুদের ক্ষেত্রে: ছোট শিশুদের জন্য পিতামাতার উপস্থিতি প্রয়োজন, এবং শিশুকে স্থির রাখার জন্য অতিরিক্ত যত্ন নেওয়া হয়।
  • অ্যালার্জি: কোনো ধরনের অ্যালার্জি (যেমন প্লাস্টিক বা সেন্সরের উপাদানে) থাকলে অগ্রিম জানান।

এই সাধারণ সতর্কতাগুলি মেনে চললে পরীক্ষাটি নিরাপদ ও কার্যকর হয়।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

পেরিয়াপিক্যাল এক্স-রে কি গর্ভাবস্থায় করানো নিরাপদ?

গর্ভাবস্থায় সাধারণত দাঁতের জরুরি সমস্যা ছাড়া এক্স-রে এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে প্রয়োজনে ডাক্তার পেট ও পেলভিস ঢেকে (লিড অ্যাপ্রন ও থাইরয়েড কলার) রেখে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এই পরীক্ষা করাতে পারেন। গর্ভবতী বা সন্দেহ থাকলে আগে ডেন্টিস্ট ও গাইনোকোলজিস্টকে জানানো জরুরি।

পেরিয়াপিক্যাল এক্স-রে আর প্যানোরামিক এক্স-রে-র মধ্যে পার্থক্য কী?

পেরিয়াপিক্যাল এক্স-রে একটি নির্দিষ্ট দাঁত বা দাঁতের নির্দিষ্ট অংশের খুব বিস্তারিত ছবি দেয়, যা শিকড়ের ডগা ও আশপাশের হাড়ের ক্ষয় নির্ণয়ে কার্যকর। অন্যদিকে প্যানোরামিক এক্স-রে পুরো মুখের (সব দাঁত, চোয়াল, সাইনাস) একটি বিস্তৃত ছবি দেখায়, যা সাধারণ ধারণা পেতে সহায়ক। কোনটি প্রয়োজন তা রোগীর লক্ষণ ও ডাক্তারের পরীক্ষার ভিত্তিতে ঠিক হয়।

পেরিয়াপিক্যাল এক্স-রে কি ব্যথা বা কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে?

না, পেরিয়াপিক্যাল এক্স-রে নিজে কোনো ব্যথা বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে না। এটি একটি দ্রুত ও নন-ইনভেসিভ পদ্ধতি; শুধু ফিল্ম বা সেন্সর মুখে রাখার সময় সামান্য অস্বস্তি হতে পারে, যা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে কেটে যায়। তবে এক্স-রে করার সময় যদি কোনো অস্বস্তি বা অ্যালার্জির মতো সমস্যা হয়, তবে সাথে সাথে ডেন্টিস্টকে জানাতে হবে।

পেরিয়াপিক্যাল এক্স-রে করার পর কি খাওয়া-দাওয়ার আগে কোনো নিয়ম মানতে হয়?

সাধারণত পেরিয়াপিক্যাল এক্স-রে করার পর খাওয়া-দাওয়ার ওপর কোনো বিধিনিষেধ থাকে না। তবে যদি এক্স-রের সাথে অন্য কোনো ডেন্টাল চিকিৎসা (যেমন দাঁত তোলা, রুট ক্যানেল) করা হয়, তাহলে সেই চিকিৎসার পরবর্তী নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। এক্স-রের পর কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে ডেন্টিস্টের পরামর্শ নিন।

পেরিয়াপিক্যাল এক্স-রে কি শিশুদের জন্য নিরাপদ?

হ্যাঁ, শিশুদের জন্যও পেরিয়াপিক্যাল এক্স-রে নিরাপদ, তবে ডেন্টিস্ট শিশুর বয়স ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে এক্সপোজার কমানোর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা (যেমন লিড অ্যাপ্রন, দ্রুত এক্সপোজার) নেন। শিশুর দাঁতের গঠন ও শিকড়ের বিকাশ নির্ণয়ে এটি কার্যকর। তবে শিশুর ক্ষেত্রে বারবার এক্স-রে না করানোই ভালো; ডাক্তার প্রয়োজন মনে করলেই করান।

বিভাগ অনুযায়ী ডেন্টিস্ট ও ডেন্টাল ক্লিনিক খুঁজুন

বাংলাদেশের আটটি বিভাগে ডেন্টিস্ট ও ডেন্টাল ক্লিনিকের তালিকা দেখতে নিচের টেবিল ব্যবহার করুন।

বিভাগ ডেন্টিস্ট
ঢাকা ঢাকায় যাচাইকৃত ডেন্টিস্ট
চট্টগ্রাম চট্টগ্রামে জনপ্রিয় ডেন্টিস্ট
খুলনা খুলনায় যাচাইকৃত ডেন্টিস্ট
রাজশাহী রাজশাহীতে জনপ্রিয় ডেন্টিস্ট
রংপুর রংপুরে যাচাইকৃত ডেন্টিস্ট
সিলেট সিলেটে ডেন্টিস্ট খুঁজুন
বরিশাল বরিশালে ডেন্টিস্ট
ময়মনসিংহ ময়মনসিংহে দাঁতের ডাক্তার

তথ্যসূত্র

উপরের তথ্যসূত্রগুলো আন্তর্জাতিক জার্নাল, সরকারি স্বাস্থ্য সংস্থা বা স্বীকৃত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া:

Rate this post