Skip to content

সাইলোগ্রাফি (Sialography / Salivary Gland Test) কী ও কেন করা হয়?

সাইলোগ্রাফি (Sialography / Salivary Gland Test) কী ও কেন করা হয়?
Rate this post

লালাগ্রন্থিতে ফোলা, খাবার সময় ব্যথা বা মুখ শুষ্ক হয়ে যাওয়া—এমন লক্ষণ দেখা দিলে ডাক্তার অনেক সময় সাইলোগ্রাফি করার পরামর্শ দেন। তবে এই পরীক্ষা নিয়ে অনেকের মনে ভয় বা ধোঁয়াশা থাকে। সাইলোগ্রাফি কী, কেন করা হয়, কীভাবে হয়, এর খরচ কেমন এবং কখন অন্য পরীক্ষা বেশি উপযোগী—সবকিছুই বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই লেখায় সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। মনে রাখবেন, সাইলোগ্রাফি লালাগ্রন্থি রোগ নির্ণয়ের একমাত্র উপায় নয়; আল্ট্রাসাউন্ড, এমআরআই বা সিয়ালোএন্ডোস্কপিও দরকার হতে পারে।

সাইলোগ্রাফি কী?

সাইলোগ্রাফি হলো একটি রেডিওগ্রাফিক (এক্স-রে) পদ্ধতি যেখানে লালাগ্রন্থির নালিতে একটি পাতলা ক্যাথেটারের মাধ্যমে কনট্রাস্ট রঞ্জক (সাধারণত আয়োডিন ভিত্তিক) প্রবেশ করিয়ে নালি ও গ্রন্থির ভেতরের ছবি তোলা হয়। এর মাধ্যমে নালির পথে কোনো বাধা (পাথর), সংকীর্ণতা বা অন্য অস্বাভাবিকতা দেখা যায়। এই পরীক্ষা প্রধানত প্যারোটিড (গালের কাছে) ও সাবম্যান্ডিবুলার (চোয়ালের নিচে) লালাগ্রন্থির জন্য করা হয়। কখনও কখনও ছোট গ্রন্থির জন্যও করা হতে পারে, তবে সেটি কম সাধারণ।

কোন কোন সমস্যায় সাইলোগ্রাফি করা হয়?

সাইলোগ্রাফি সাধারণত নিচের অবস্থাগুলো সনাক্ত করতে ডাক্তারির পরামর্শ দেওয়া হয়:

  • লালাগ্রন্থির পাথর (সিয়ালোলিথিয়াসিস): লালার মধ্যে ক্যালসিয়াম জমে ছোট পাথর হলে নালি বন্ধ হয়ে যায়, ফলে গ্রন্থি ফুলে ব্যথা হয়, বিশেষ করে খাবার সময়।
  • নালি সংকীর্ণতা (স্ট্রিকচার): আগের কোনো আঘাত বা সংক্রমণের কারণে নালি সরু হয়ে লালা বের হতে বাধা পায়।
  • দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ (ক্রনিক সিয়ালাডেনাইটিস): বারবার সংক্রমণ বা ধূমপানের মতো কারণে গ্রন্থি ও নালির প্রদাহ হলে সাইলোগ্রাফি নালির অবস্থা বুঝতে সাহায্য করে।
  • জন্মগত বা অর্জিত নালির অস্বাভাবিক গঠন: খুব কম ক্ষেত্রে নালির মুখ সরু বা নালি অদ্ভুত জায়গায় খোলা থাকতে পারে।

সতর্কতা: তীব্র (অ্যাকিউট) সংক্রমণের সময় সাইলোগ্রাফি করা নিষেধ, কারণ কনট্রাস্ট ইনজেকশন সংক্রমণ ছড়াতে পারে এবং সেপসিসের ঝুঁকি বাড়ায়।

পরীক্ষার আগে কী কী জানা জরুরি?

  • অ্যালার্জি: বিশেষ করে আয়োডিন বা ল্যাটেক্সের প্রতি অ্যালার্জি থাকলে রেডিওলজিস্টকে জানাতে হবে। যদি আগে কনট্রাস্টে অ্যালার্জি হয়ে থাকে, তবে অন্য পরীক্ষার কথা ভাবা যেতে পারে বা প্রস্তুতি হিসেবে ওষুধ দেওয়া হতে পারে।
  • গর্ভাবস্থা: এক্স-রে ভ্রূণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, তাই গর্ভবতী বা সন্দেহ হলে ডাক্তারকে জানাতে হবে।
  • ওষুধ: রক্ত পাতলা করার ওষুধ (যেমন অ্যাসপিরিন, ওয়ারফারিন) নিলে ডাক্তারকে জানান, কারণ নালি ক্যাথেটারাইজের সময় রক্তপাত হতে পারে।
  • খাবার: সাধারণত খালি পেটে আসার প্রয়োজন নেই, তবে কোনো কোনো রেডিওলজি সেন্টার নির্দেশ দিতে পারে। আগে জেনে নেওয়া ভালো।

সাইলোগ্রাফি কীভাবে করা হয়? ধাপে ধাপে

প্রক্রিয়াটি একজন রেডিওলজিস্ট বা প্রশিক্ষিত প্রযুক্তিবিদ করেন। সাধারণত নিচের ধাপগুলো থাকে:

  1. প্রস্তুতি: রোগীকে আরামদায়কভাবে শুইয়ে রাখা হয়। যেই নালির মুখে ক্যাথেটার ঢোকানো হবে, সেটি জীবাণুমুক্ত করা হয়।
  2. স্থানীয় অসাড়করণ: নালির মুখে ও চারপাশে স্থানীয় অ্যানেস্থেশিয়া দেওয়া হয় যাতে অস্বস্তি কম হয়। কখনও কখনও একেবারে নালির ভেতরেও অ্যানেস্থেশিয়া দেওয়া হয়।
  3. ক্যাথেটার প্রবেশ: একটি খুব পাতলা, নমনীয় ক্যাথেটার (সাধারণত ২৪-২৬ গেজ) নালির মুখ দিয়ে ধীরে ধীরে নালির ভেতরে প্রবেশ করানো হয়।
  4. কনট্রাস্ট ইনজেকশন: অল্প পরিমাণে কনট্রাস্ট রঞ্জক (প্রায় ০.৫-২ মিলি) খুব আস্তে আস্তে ইনজেক্ট করা হয়। রোগী অল্প চাপ বা টান অনুভব করতে পারেন।
  5. ছবি তোলা: কনট্রাস্ট নালি ভর্তি হওয়ার সাথে সাথেই এক বা একাধিক এক্স-রে ছবি (প্লেইন ফিল্ম বা ডিজিটাল সাবট্র্যাকশন সায়ালোগ্রাফি) তোলা হয়। কখনও কখনও ছবি তোলার আগে মুখে লেবু বা টক জিনিস দিয়ে লালা নিঃসরণ উদ্দীপিত করা হয়।
  6. সমাপ্তি: ক্যাথেটার সরিয়ে নেওয়ার পর লালা স্বাভাবিকভাবে বেরিয়ে আসে। পুরো প্রক্রিয়াটি ১৫-৩০ মিনিট সময় নেয়।

পরীক্ষার পর কিছুক্ষণ নালির জায়গায় হালকা ব্যথা বা ফোলাভাব থাকতে পারে, যা সাধারণত কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কমে যায়।

ঝুঁকি ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কী কী?

  • কনট্রাস্ট অ্যালার্জি: ফুসকুড়ি, চুলকানি, শ্বাসকষ্ট বা অ্যানাফাইল্যাক্সিস। আগে থেকে অ্যালার্জি জানানো গেলে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
  • কনট্রাস্ট এক্সট্রাভাসেশন: কনট্রাস্ট নালির বাইরে টিস্যুতে চলে গেলে ব্যথা ও ফোলাভাব হতে পারে। এটি সাধারণত নিজে থেকেই সেরে যায়, তবে কখনও কখনও সংক্রমণ ঘটাতে পারে।
  • নালিতে আঘাত: ক্যাথেটার ঢোকানোর সময় নালির ভিতরের আবরণ ছিঁড়ে যেতে পারে, যার ফলে লালা নালির বাইরে চলে যেতে পারে (সিয়ালোসিল) বা দাগ পড়তে পারে।
  • সংক্রমণ: যদি তীব্র সংক্রমণের সময় সাইলোগ্রাফি করা হয়, তবে সংক্রমণ ছড়িয়ে সেপসিস হতে পারে। তাই তীব্র প্রদাহে পরীক্ষা এড়ানো হয়।
  • গ্রন্থি ফোলা: কখনও কখনও পরীক্ষার পর গ্রন্থি কিছুক্ষণ ফুলে থাকতে পারে, যা সাধারণত কয়েক ঘণ্টায় সেরে যায়।

সাইলোগ্রাফির বিকল্প কী কী?

বর্তমানে উন্নত ইমেজিং প্রযুক্তির কারণে সাইলোগ্রাফির ব্যবহার কিছুটা কমেছে। নিচের টেবিলে লালাগ্রন্থি পরীক্ষার বিভিন্ন বিকল্প ও তাদের তুলনা দেওয়া হলো:

পরীক্ষার নাম কী দেখায় কখন পছন্দ করা হয় আনুমানিক খরচ (বাংলাদেশি টাকায়)
আল্ট্রাসাউন্ড গ্রন্থির আকার, পাথর (বড়), প্রদাহ, ফোড়া প্রথম ধাপের পরীক্ষা; সহজ, সস্তা, বিকিরণ নেই ৫০০–১,৫০০
সিটি স্ক্যান পাথর (খুব ছোট), গ্রন্থির গঠন, টিউমার পাথর সন্দেহে ও জটিল কেস ২,০০০–৪,৫০০
এমআরআই নরম টিস্যু, নালির গঠন, টিউমার সন্দেহভাজন টিউমার বা নালির বিস্তারিত দেখতে ৪,০০০–৮,০০০
সিয়ালোএন্ডোস্কপি নালির ভেতর সরাসরি দেখা, পাথর অপসারণ একই সাথে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা প্রক্রিয়া ১০,০০০–২০,০০০ (বেশি)
বায়োপসি টিস্যুর কোষীয় পরিবর্তন (ক্যানসার) টিউমার বা অটোইমিউন রোগ সন্দেহে হার্ভারিয়েবল

প্রত্যেক পরীক্ষারই নিজস্ব সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা আছে। ডাক্তার রোগীর অবস্থা, লক্ষণ ও প্রাথমিক পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে উপযুক্ত পরীক্ষা নির্বাচন করবেন।

বাংলাদেশে সাইলোগ্রাফির খরচ ও কোথায় করাবেন?

বাংলাদেশে সাইলোগ্রাফি বেশিরভাগ বড় হাসপাতাল, নিউক্লিয়ার মেডিসিন সেন্টার বা উচ্চমানের রেডিওলজি ক্লিনিকে করা হয়। খরচ শহর, প্রতিষ্ঠানের মান, এবং এক্স-রে বা ডিজিটাল সাবট্র্যাকশনের ধরণ অনুযায়ী ভিন্ন হয়। নিচে একটি সাধারণ ধারণা দেওয়া হলো:

বিবরণ আনুমানিক মূল্য (বাংলাদেশি টাকায়) মন্তব্য
সাইলোগ্রাফি (মূল পরীক্ষা) ২,০০০–৫,০০০ প্যারোটিড বা সাবম্যান্ডিবুলার—প্রতি গ্রন্থির জন্য আলাদা হতে পারে
ডিজিটাল সাবট্র্যাকশন সাইলোগ্রাফি (ডিএসএ) ৪,০০০–৮,০০০ আরও বিস্তারিত ছবি, সাধারণত কমন নয়
কন্ট্রাস্ট মিডিয়ার খরচ প্রায় ৫০০–১,০০০ মূল্যের মধ্যে থাকতে পারে কিনা জিজ্ঞেস করে নিন

মনে রাখবেন: উপরের দামগুলো আনুমানিক এবং পরিবর্তনশীল। নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বর্তমান মূল্য ও প্যাকেজ জানতে আগে ফোন করে জেনে নেওয়া ভালো। সাধারণত ঢাকা ও চট্টগ্রামে দাম বেশি, জেলা শহরে কম হতে পারে।

সাইলোগ্রাফি করানোর আগে রেডিওলজিস্ট, ইএনটি বিশেষজ্ঞ (কান-নাক-গলা ডাক্তার) বা ওরাল সার্জন (মুখের সার্জন) এর পরামর্শ নেওয়া উচিত। তারা রোগীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে সঠিক পরীক্ষা বাছাই করতে সাহায্য করবেন।

বিভাগ অনুযায়ী ডেন্টিস্ট ও ডেন্টাল ক্লিনিক

লালাগ্রন্থির সমস্যার জন্য প্রায়শই ডেন্টিস্ট বা ওরাল সার্জনের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। নিচের টেবিলে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিভাগে ডেন্টিস্ট ও ডেন্টাল ক্লিনিকের তালিকা দেওয়া হলো:

বিভাগ ডেন্টাল তালিকা
Dhaka ঢাকায় যাচাইকৃত ডেন্টিস্ট
Chattogram চট্টগ্রামে জনপ্রিয় ডেন্টিস্ট
Khulna খুলনায় যাচাইকৃত ডেন্টিস্ট
Rajshahi রাজশাহীতে জনপ্রিয় ডেন্টিস্ট
Rangpur রংপুরে যাচাইকৃত ডেন্টিস্ট
Sylhet সিলেটে ডেন্টিস্ট খুঁজুন
Barishal বরিশালে ডেন্টিস্ট
Mymensingh ময়মনসিংহে দাঁতের ডাক্তার

এই তালিকা থেকে আপনার বিভাগের ডেন্টিস্ট বা ডেন্টাল ক্লিনিকের ঠিকানা ও যোগাযোগের তথ্য পেতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, লালাগ্রন্থির বিশেষ সমস্যা থাকলে শুধু ডেন্টিস্ট নয়, ইএনটি বা ওরাল সার্জন বিশেষজ্ঞের কাছেও যাওয়া প্রয়োজন।

কখন ডাক্তার দেখাবেন?

নিচের লক্ষণগুলোর মধ্যে কোনো একটি থাকলে দ্রুত ইএনটি বা ডেন্টাল সার্জনের পরামর্শ নেওয়া উচিত:

  • গাল বা চোয়ালের নিচে ফোলাভাব যা খাবার সময় বাড়ে
  • লালাগ্রন্থি ফুলে ব্যথা হওয়া, বিশেষ করে লেবু বা টক জিনিস খেলে
  • বারবার একই জায়গায় সংক্রমণ (পুঁজ পড়া, জ্বর)
  • মুখ শুকিয়ে যাওয়া (শুষ্ক মুখ) দীর্ঘদিন ধরে
  • লালাগ্রন্থি শক্ত হয়ে যাওয়া বা অসম ফোলা (টিউমারের সন্দেহ)

ডাক্তার প্রথমে শারীরিক পরীক্ষা ও আল্ট্রাসাউন্ড করতে পারেন। তারপর প্রয়োজনে সাইলোগ্রাফি বা অন্য পরীক্ষার পরামর্শ দেবেন। নিজে থেকে পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

সাইলোগ্রাফি কি ব্যথাদায়ক? ব্যথা কমানোর কোনো উপায় আছে কি?

সাইলোগ্রাফির সময় সাধারণত সামান্য অস্বস্তি বা চাপ অনুভূত হতে পারে, তবে তীব্র ব্যথা হয় না। লালাগ্রন্থির নালিতে ক্যাথেটার (পাতলা নল) প্রবেশ করানোর সময় কিছুটা টান লাগতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্থানীয় অবশকরণ (লোকাল অ্যানেস্থেসিয়া) ব্যবহার করা হয়, যা ব্যথা অনেকটাই কমিয়ে দেয়। পরীক্ষার পর কিছুক্ষণ ফোলা বা হালকা ব্যথা থাকতে পারে, যা সাধারণত নিজেই সেরে যায়। ব্যথা অসহ্য মনে হলে ডাক্তারকে জানাবেন।

পরীক্ষার আগে খাওয়া-দাওয়া বা ওষুধ বন্ধ রাখতে হবে কি?

সাইলোগ্রাফির জন্য সাধারণত উপোস (খালি পেটে) থাকার প্রয়োজন হয় না। তবে ডাক্তার যদি অন্য কোনো পরীক্ষা (যেমন রক্ত পরীক্ষা) একসঙ্গে করতে বলেন, তাহলে নির্দেশনা ভিন্ন হতে পারে। রক্ত পাতলা করার ওষুধ (যেমন অ্যাসপিরিন, ওয়ারফারিন) বা ডায়াবেটিসের ওষুধ সেবন করলে আগেই জানিয়ে দেওয়া জরুরি। কনট্রাস্ট ডাই ব্যবহারের আগে অ্যালার্জি বা থাইরয়েড সমস্যার ইতিহাস থাকলে ডাক্তারকে জানাবেন। সবচেয়ে ভালো হয় পরীক্ষার আগে ডাক্তারের দেওয়া নির্দেশনা মেনে চলা।

কনট্রাস্ট ডাইতে অ্যালার্জি থাকলে কী করবেন?

আপনার যদি আগে থেকে কোনো কনট্রাস্ট ডাই বা আয়োডিনজাতীয় পদার্থে অ্যালার্জি জানা থাকে, তবে সাইলোগ্রাফির আগে অবশ্যই ডাক্তার ও রেডিওলজিস্টকে জানাবেন। অ্যালার্জির তীব্রতা অনুযায়ী ডাক্তার বিকল্প পরীক্ষা (যেমন এমআরআই সিয়ালোগ্রাফি বা আল্ট্রাসাউন্ড) বিবেচনা করতে পারেন। অথবা প্রয়োজনে অ্যালার্জি প্রতিরোধী ওষুধ (অ্যান্টিহিস্টামিন) আগে দিয়ে পরীক্ষা করা হতে পারে। নিজে থেকে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

সাইলোগ্রাফি করতে কত সময় লাগে? ফলাফল পেতে কতক্ষণ?

পুরো পরীক্ষাটি সাধারণত ৩০ থেকে ৬০ মিনিটের মধ্যে শেষ হয়। এর মধ্যে ক্যাথেটার বসানো, কনট্রাস্ট ডাই ইনজেকশন এবং এক্স-রে বা ফ্লুরোস্কপি নেওয়া অন্তর্ভুক্ত। পরীক্ষার পর রেডিওলজিস্ট রিপোর্ট তৈরি করতে কিছু সময় লাগতে পারে—সাধারণত ১-২ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট পাওয়া যায়। তবে হাসপাতালের ভিড় ও জটিলতার ওপর নির্ভর করে সময় কম-বেশি হতে পারে। রিপোর্ট হাতে পেয়ে চিকিৎসকের কাছে দেখানো জরুরি।

বাংলাদেশের সরকারি হাসপাতালে কি সাইলোগ্রাফি করা হয়? কোথায় করাবেন?

বাংলাদেশের অধিকাংশ সরকারি হাসপাতালে সাইলোগ্রাফির সুবিধা সীমিত। বড় কিছু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেডিওলজি বিভাগে মাঝে মাঝে করা হয়, তবে সব সময় প্রস্তুত থাকে না। বেসরকারি পর্যায়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ বড় শহরের বিশেষায়িত ডেন্টাল কলেজ, ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি ইউনিট বা রেডিওলজি সেন্টারে এই পরীক্ষা করানো যায়। খরচ সাধারণত ২,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকার মধ্যে হতে পারে। পরীক্ষার আগে সরাসরি ওই সেন্টারে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া ভালো।

তথ্যসূত্র

উপরের তথ্যসূত্রগুলো আন্তর্জাতিক জার্নাল, সরকারি স্বাস্থ্য সংস্থা বা স্বীকৃত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া:

Rate this post