Skip to content

মুখে ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ?

মুখে ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ?
Rate this post

মুখের ভেতরে ঘা, দাগ বা ফোলা দেখা দিলে অনেকেরই দুশ্চিন্তা হয়। ভালো খবর হলো, এই ধরনের বেশিরভাগ সমস্যাই ক্যান্সার নয়—দাঁতের ঘষা, আফথাস আলসার বা সাধারণ সংক্রমণের কারণেও এগুলো হতে পারে। তবে কিছু লক্ষণ আছে যেগুলোকে হালকাভাবে নেওয়া ঠিক নয়, বিশেষ করে যদি সেগুলো দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে স্থায়ী থাকে এবং নিজে থেকে না সারে। এই নিবন্ধে মুখের ক্যান্সারের সম্ভাব্য প্রাথমিক লক্ষণগুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে, সাথে সাথে এটাও স্পষ্ট করে বলা হবে যে শুধু উপসর্গ দেখে ক্যান্সার নির্ণয় করা সম্ভব নয়—প্রয়োজন একজন qualified চিকিৎসকের মূল্যায়ন।

মুখের ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণগুলো কী কী?

মুখের ক্যান্সার (oral cancer) সাধারণত ঠোঁট, জিহ্বা, মাড়ি, গালের ভেতরের আস্তরণ, তালু বা গলার পেছনের অংশে হয়ে থাকে। প্রাথমিক অবস্থায় লক্ষণগুলো খুবই সাধারণ মনে হতে পারে, তাই সহজে চোখ এড়িয়ে যায়। তবে নিচের যেকোনো একটি লক্ষণ যদি ২-৩ সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়, তাহলে সেটি পরীক্ষা করানো জরুরি:

  • নন-হিলিং আলসার: মুখের ভেতরে বা ঠোঁটে এমন ঘা যা ২ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে না সারে।
  • সাদা বা লাল দাগ: জিহ্বা, মাড়ি বা গালের ভেতরে সাদা (leukoplakia) বা লাল (erythroplakia) প্যাচ।
  • ফোলা বা শক্ত জায়গা: জিহ্বা, মাড়ি, তালু বা চোয়ালে অস্বাভাবিক ফোলা, দলা বা পুরু ভাব।
  • গিলতে বা চিবাতে কষ্ট: খাবার গিলতে সমস্যা, চিবাতে ব্যথা বা কথা বলার সময় উচ্চারণে পরিবর্তন।
  • অস্বাভাবিক ব্যথা বা অসাড়তা: মুখের কোনো নির্দিষ্ট অংশে ক্রমাগত ব্যথা, অসাড় ভাব বা ঝিঁঝিঁ ধরা।
  • দাঁতের ফিটিং-এ পরিবর্তন: ডেনচার বা দাঁতের কৃত্রিম অংশ আগের মতো না বসা বা ঢিলা হয়ে যাওয়া।

মনে রাখবেন, এই লক্ষণগুলোর যেকোনো একটি ক্যান্সার নিশ্চিত করে না। অনেক সৌম্য (benign) অবস্থায়ও একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। বরং এগুলোকে সতর্কবার্তা হিসেবে দেখুন—যা চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।

কখন একটি সাধারণ ঘা ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে?

মুখের ভেতরের ঘা খুবই সাধারণ ঘটনা। আফথাস আলসার (aphthous ulcer), দাঁতের ধারালো অংশে ঘষা লেগে হওয়া ঘা, বা খাবার পুড়ে যাওয়ার কারণে সৃষ্ট ঘা সাধারণত ১-২ সপ্তাহের মধ্যে নিজে থেকেই সেরে যায়। কিন্তু একটি ঘা যদি এই সময়ের বেশি স্থায়ী হয়, আকারে বাড়তে থাকে, অথবা ব্যথাহীন হয়ে থাকে (যা অনেক সময় বেশি বিপজ্জনক), তাহলে তা উপেক্ষা করা উচিত নয়।

বাংলাদেশে যারা নিয়মিত পান-সুপারি, জর্দা বা গুটকা খান, তাদের মধ্যে এই ধরনের ঘা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার প্রবণতা বেশি। দীর্ঘস্থায়ী ঘা মুখের ক্যান্সারের একটি সাধারণ প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে, যদিও এটি সবসময় ক্যান্সার হয় না। তাই ঘা যদি ২ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে থাকে, তাহলে নিজে কোনো ওষুধ বা ঘরোয়া চিকিৎসায় নির্ভর না করে ডেন্টিস্টের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

সাদা বা লাল দাগ: লিউকোপ্লাকিয়া ও এরিথ্রোপ্লাকিয়া

মুখের ভেতরে সাদা দাগকে চিকিৎসা ভাষায় লিউকোপ্লাকিয়া (leukoplakia) এবং লাল দাগকে এরিথ্রোপ্লাকিয়া (erythroplakia) বলা হয়। এই দুটোই প্রাক-ক্যান্সারস (pre-cancerous) অবস্থা হিসেবে পরিচিত, অর্থাৎ এগুলো থেকে সময়ের সাথে সাথে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

এরিথ্রোপ্লাকিয়া (লাল দাগ) সাধারণত লিউকোপ্লাকিয়ার চেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে এই দাগগুলো প্রায়ই ব্যথাহীন থাকে বলে মানুষ সহজেই উপেক্ষা করে। যারা তামাক বা পান-সুপারি সেবন করেন, তাদের মধ্যে এই দাগগুলো বেশি দেখা যায়। তাই নিয়মিত আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের মুখ পরীক্ষা করা একটি ভালো অভ্যাস—জিহ্বার নিচের অংশ, গালের ভেতরের দিক এবং তালুটা ভালোভাবে দেখুন। কোনো সাদা বা লাল দাগ যদি ২ সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয় বা আকারে বাড়তে থাকে, তবে সেটি পরীক্ষা করাতে ভুলবেন না।

মুখে ফোলা বা শক্ত জায়গা: কী বোঝায়?

জিহ্বা, মাড়ি, গালের ভেতর বা চোয়ালের কোনো অংশে যদি হঠাৎ ফোলা, শক্ত দলা বা পুরু জায়গা অনুভব করেন—বিশেষ করে যদি সেটি ব্যথাহীন হয় এবং ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে—তাহলে তা মুখের ক্যান্সারের ইঙ্গিত হতে পারে। এই ধরনের ফোলা বা দলা সাধারণত টিউমার বা অস্বাভাবিক কোষের বৃদ্ধির কারণে হয়ে থাকে।

কিছু ক্ষেত্রে এটি লিম্ফ নোড (lymph node) ফুলে যাওয়ার কারণেও হতে পারে, যা সংক্রমণের লক্ষণও হতে পারে। তবে ব্যথাহীন, ক্রমবর্ধমান দলা সবসময় পরীক্ষা করা উচিত। এছাড়া ডেনচার ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে ডেনচার আগের মতো ভালোভাবে না বসা বা মুখের মধ্যে চাপ সৃষ্টি করা—এটিও একটি সম্ভাব্য সতর্কবার্তা, কারণ ভেতরে পরিবর্তন হওয়ার কারণে ফিটিং বদলে যেতে পারে।

গিলতে বা চিবাতে কষ্ট: কখন সতর্ক হবেন?

খাবার গিলতে সমস্যা (dysphagia), চিবাতে ব্যথা, অথবা কথা বলার সময় উচ্চারণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন—এই লক্ষণগুলো মুখ বা গলার পেছনের অংশে টিউমার হওয়ার কারণে দেখা দিতে পারে। সাধারণত টনসিলাইটিস বা গলার সংক্রমণেও গিলতে কষ্ট হয়, তবে সেই ক্ষেত্রে জ্বর বা গলা ব্যথার মতো অন্যান্য লক্ষণও থাকে।

কিন্তু যদি এই সমস্যাটি ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে, অন্য কোনো আপাত কারণ ছাড়াই স্থায়ী হয়, এবং সাথে মুখের অন্য কোনো অস্বাভাবিকতাও থাকে, তাহলে দ্রুত একজন ইএনটি বিশেষজ্ঞ বা ডেন্টিস্টের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। এই পর্যায়ে দেরি করলে চিকিৎসা জটিল হতে পারে।

বাংলাদেশে মুখের ক্যান্সারের ঝুঁকির কারণগুলো কী কী?

বাংলাদেশে মুখের ক্যান্সার (oral cancer)-এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো তামাক ও পান-সুপারি সেবন। নিচের কারণগুলো থাকলে আপনার ঝুঁকি বেশি বলে ধরে নেওয়া হয়:

  • পান-সুপারি: সুপারি, চুন ও পান পাতা—বিশেষ করে জর্দা বা সাদাপাতা মিশিয়ে খেলে ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
  • তামাক চিবানো: গুটকা, জর্দা, সাদাপাতা ইত্যাদি তামাকজাত দ্রব্য সরাসরি মুখের টিস্যুর সংস্পর্শে আসে।
  • ধূমপান: সিগারেট, বিড়ি, বা হুক্কা—সব ধরনের ধূমপানই ঝুঁকিপূর্ণ।
  • মদ্যপান: অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন, বিশেষ করে তামাক সেবনের সাথে মিল থাকলে ঝুঁকি আরও বাড়ে।
  • দরিদ্র মুখের স্বাস্থ্যবিধি: নিয়মিত দাঁত ব্রাশ না করা, দাঁতের ক্ষয় বা মাড়ির রোগ দীর্ঘদিন থাকলে।
  • HPV সংক্রমণ: হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাসের কিছু স্ট্রেন মুখের ক্যান্সারের সাথে যুক্ত।

এই ঝুঁকির কারণগুলো থাকলে লক্ষণ দেখা দেওয়ার আগেই নিয়মিত ডেন্টাল চেকআপ করানো উচিত, কারণ প্রাথমিক শনাক্তকরণে চিকিৎসায় সাফল্যের হার অনেক বেশি।

কখন ডাক্তার দেখাবেন?

মুখের ক্যান্সার প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে চিকিৎসা অনেক সহজ হয় এবং সাফল্যের সম্ভাবনা অনেক বেশি। তাই নিচের শর্তগুলোর যেকোনো একটি প্রযোজ্য হলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন:

  • মুখের ভেতরে বা ঠোঁটে কোনো ঘা ২-৩ সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হচ্ছে।
  • সাদা বা লাল দাগ আকারে বাড়ছে বা নতুন কোনো দাগ দেখা যাচ্ছে।
  • মুখের কোথাও ফোলা, শক্ত জায়গা বা দলা অনুভব করছেন, যা ব্যথাহীন।
  • গিলতে, চিবাতে বা কথা বলতে ক্রমাগত কষ্ট হচ্ছে।
  • মুখের একপাশে ক্রমাগত ব্যথা বা অসাড়তা লক্ষ্য করছেন।
  • দাঁতের ফিটিং-এ হঠাৎ পরিবর্তন এসেছে, যেমন ডেনচার আর আগের মতো বসছে না।

নিজে নিজে রোগ নির্ণয় করার চেষ্টা করবেন না এবং ঘরোয়া চিকিৎসায় সময় নষ্ট করবেন না। সন্দেহ হলে সরাসরি একজন ডেন্টিস্ট বা ইএনটি বিশেষজ্ঞের কাছে যান। ভয় বা সামাজিক লজ্জা যেন আপনার চিকিৎসা নেওয়ার পথে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়—এটি আপনার জীবন বাঁচানোর প্রথম ধাপ হতে পারে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন বিভাগে যাচাইকৃত ডেন্টিস্টের তালিকা পেতে নিচের সারণিটি দেখুন:

বিভাগ ডেন্টাল তালিকা
ঢাকা ঢাকায় যাচাইকৃত ডেন্টিস্ট
চট্টগ্রাম চট্টগ্রামে জনপ্রিয় ডেন্টিস্ট
খুলনা খুলনায় যাচাইকৃত ডেন্টিস্ট
রাজশাহী রাজশাহীতে জনপ্রিয় ডেন্টিস্ট
রংপুর রংপুরে যাচাইকৃত ডেন্টিস্ট
সিলেট সিলেটে ডেন্টিস্ট খুঁজুন
বরিশাল বরিশালে ডেন্টিস্ট
ময়মনসিংহ ময়মনসিংহে দাঁতের ডাক্তার

সাধারণ মুখের সমস্যা বনাম সতর্কবার্তা: কখন চিন্তিত হবেন?

সব মুখের সমস্যাই যে ক্যান্সারের লক্ষণ নয়—এটা মাথায় রাখা জরুরি। নিচের সারণিটি সাধারণ সমস্যা ও সম্ভাব্য সতর্কবার্তার মধ্যে পার্থক্য বুঝতে সাহায্য করবে, তবে মনে রাখবেন এটি কোনো রোগ নির্ণয়ের নির্দেশিকা নয়।

সাধারণ মুখের সমস্যা বনাম সতর্কবার্তা
লক্ষণ সাধারণ কারণ (ক্যান্সার নয়) কখন সতর্ক হবেন
মুখের ঘা আফথাস আলসার, দাঁতের ঘষা, হালকা সংক্রমণ ২ সপ্তাহের বেশি স্থায়ী, আকারে বাড়ছে, অথবা ব্যথাহীন
সাদা দাগ দাঁতের ঘষায় সৃষ্ট সাদা প্যাচ, খোস-পাঁচড়া, ছত্রাক সংক্রমণ ২ সপ্তাহের বেশি থাকে, ঘষে ফেলা যায় না, জিভে বা গালে
লাল দাগ হালকা জ্বালাপোড়া, অ্যালার্জি, ভিটামিনের ঘাটতি দ্রুত বড় হয়, ব্যথাহীন, ২ সপ্তাহের বেশি স্থায়ী
ফোলা বা দলা লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়া, সেবেসিয়াস সিস্ট, সাধারণ ইনফেকশন ব্যথাহীন, ধীরে ধীরে বাড়ছে, শক্ত অনুভব হচ্ছে
গিলতে কষ্ট টনসিলাইটিস, গলা সংক্রমণ, অ্যাসিড রিফ্লাক্স ক্রমাগত বাড়ছে, অন্য কারণ নেই, সাথে জ্বর নেই

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

মুখের ক্যান্সার কি ব্যথাহীন হতে পারে?

হ্যাঁ, মুখের ক্যান্সারের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় ব্যথা থাকে না। একটি ছোট ঘা বা দাগ হয়তো ব্যথা করছে না, কিন্তু দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী থাকলে সেটি উপেক্ষা করা উচিত নয়। ব্যথাহীন হওয়ার কারণে অনেকেই দেরি করে ডাক্তার দেখান, যা পরবর্তী চিকিৎসাকে কঠিন করে তোলে। তাই ব্যথা না থাকলেও দীর্ঘস্থায়ী কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে দাঁতের বা মুখের বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ঠোঁটের ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ কী কী?

ঠোঁটের ক্যান্সার সাধারণত নিচের ঠোঁটে বেশি হয় এবং এর প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে: ঠোঁটে একটি দীর্ঘস্থায়ী ঘা বা ফাটল যা সহজে সারে না, ঠোঁটের ওপর সাদা বা লালচে দাগ, অথবা ঠোঁটের কোনো অংশ ফুলে শক্ত হয়ে যাওয়া। যারা তামাক, পান-সুপারি বা জর্দা ব্যবহার করেন, অথবা দীর্ঘদিন রোদে কাজ করেন, তাদের মধ্যে ঠোঁটের ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি। এই ধরনের লক্ষণ দুই সপ্তাহের বেশি থাকলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।

মুখের ক্যান্সার কি দ্রুত ছড়ায়?

মুখের ক্যান্সারের বিস্তারের গতি নির্ভর করে ক্যান্সারের ধরন, অবস্থান এবং রোগীর সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর। কিছু আগ্রাসী ধরনের ক্যান্সার (যেমন স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা) দ্রুত লসিকা গ্রন্থি ও আশপাশের টিস্যুতে ছড়াতে পারে, আবার কিছু ধীরগতির হয়। তবে সাধারণ নিয়ম হলো, যত দেরি করে শনাক্ত করা যায়, ছড়ানোর সম্ভাবনা তত বেড়ে যায়। তাই প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দেওয়ার পর দ্রুত রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা শুরু করলে ছড়ানোর ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

মুখের ক্যান্সারের জন্য কি নির্দিষ্ট বয়সে স্ক্রিনিং করা উচিত?

বাংলাদেশে মুখের ক্যান্সারের জন্য কোনো নির্দিষ্ট বয়সভিত্তিক স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম নেই, তবে যাদের ঝুঁকি বেশি (যেমন তামাক, পান, জর্দা, মদ্যপান বা আগে মুখের ক্যান্সারের ইতিহাস আছে) তাদের জন্য নিয়মিত দাঁতের ডাক্তার বা ইএনটি বিশেষজ্ঞের কাছে মুখ পরীক্ষা করানো বুদ্ধিমানের কাজ। সাধারণত ৪০ বছর বয়সের পর থেকে ঝুঁকি বাড়ে, তাই এই বয়সে বছরে অন্তত একবার মুখের ভেতরের পরীক্ষা করানো উপকারী হতে পারে। তবে যে কারও মধ্যে সন্দেহজনক লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

প্রথম পর্যায়ে ধরা পড়লে মুখের ক্যান্সার কি সম্পূর্ণ সেরে যায়?

প্রথম পর্যায়ে (স্থানীয় পর্যায়ে) মুখের ক্যান্সার শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসায় সাফল্যের হার অনেক বেশি। অস্ত্রোপচার, রেডিওথেরাপি বা কেমোথেরাপির মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই ক্যান্সার সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব। তবে ‘সম্পূর্ণ সেরে যাওয়া’ বলতে বোঝায় ক্যান্সারমুক্ত থাকা এবং নিয়মিত ফলোআপের মাধ্যমে পুনরায় না হওয়া নিশ্চিত করা। চিকিৎসার পরও রোগীকে তামাক-পান ইত্যাদি পরিহার করতে হবে এবং নিয়মিত চেকআপে যেতে হবে। প্রতিটি রোগীর ক্ষেত্রে ফলাফল ভিন্ন হতে পারে, তাই সঠিক তথ্যের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

তথ্যসূত্র

উপরের তথ্যসূত্রগুলো আন্তর্জাতিক জার্নাল, সরকারি স্বাস্থ্য সংস্থা বা স্বীকৃত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া:

Rate this post