মুখের ভেতরে ঘা বা দলা দেখা দিলে অনেকেরই মনে দুশ্চিন্তা কাজ করে—এটা কি ক্যান্সার? এই ভয়টাই স্বাভাবিক, তবে সব মুখের ঘা বা টিউমার যে মরণব্যাধি, তা না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এগুলো সৌম্য (বেনাইন) বা সাধারণ সংক্রমণের কারণে হয়। কিন্তু নিশ্চিত হওয়ার জন্য চিকিৎসক যখন বায়োপসি টেস্টের পরামর্শ দেন, তখন তা এড়িয়ে যাওয়া ঠিক না। এই পরীক্ষাটি আসলে কী, কেন করা হয়, এবং এটি কীভাবে রোগ নির্ণয়ে সাহায্য করে—সেটা সহজ ভাষায় জানাই এই নিবন্ধের উদ্দেশ্য। কোনো ভয় বা আতঙ্ক নয়, শুধু সঠিক তথ্য।
মুখের ঘা ও টিউমারের মধ্যে পার্থক্য কী?
মুখের ঘা (আলসার) এবং টিউমার—এই দুটি শব্দ অনেক সময় এক করে ব্যবহার করা হয়, কিন্তু এদের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য আছে।
মুখের ঘা সাধারণত ছোট, বেদনাদায়ক, আকারে ১ সেন্টিমিটারের কম হয় এবং ১-২ সপ্তাহের মধ্যে নিজে নিজে সেরে যায়। এগুলো সাধারণত আঘাত, ভিটামিনের অভাব, বা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে হয়।
মুখের টিউমার বলতে বোঝায় অস্বাভাবিক কোষের বৃদ্ধি, যা গুটি, দলা, বা পুরু জায়গা হিসেবে দেখা দেয়। টিউমার দু-ধরনের হয়: সৌম্য (ক্যান্সার নয়) এবং ম্যালিগন্যান্ট (ক্যান্সার)। সৌম্য টিউমার ধীরে বাড়ে, আশপাশের টিস্যুতে ছড়ায় না, এবং সাধারণত বিপজ্জনক নয়। ম্যালিগন্যান্ট টিউমার দ্রুত বাড়ে, ঘা হয়ে যায়, রক্তপাত হয়, এবং শরীরের অন্য অংশে ছড়াতে পারে।
সুতরাং, মুখের সব ঘা বা দলা টিউমার নয়, এবং সব টিউমার ক্যান্সার নয়। বায়োপসি টেস্টই একমাত্র উপায় যা নিশ্চিত করে বলতে পারে এটি কী ধরনের পরিবর্তন।
বায়োপসি কখন প্রয়োজন?
সব মুখের ঘা বা দলা বায়োপসি করে পরীক্ষা করার দরকার নেই। নিচের যেকোনো একটি লক্ষণ থাকলে চিকিৎসক বায়োপসির পরামর্শ দিতে পারেন:
- ২-৩ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে মুখের ঘা বা ক্ষত না শুকালে
- মুখের ভেতরে দ্রুত বাড়তে থাকা গুটি বা শক্ত দলা
- সাধারণ স্পর্শে রক্তপাত হয় এমন দাগ বা ঘা
- মুখের ভেতরের সাদা (লিউকোপ্লাকিয়া) বা লাল (এরিথ্রোপ্লাকিয়া) দাগ
- জিহ্বা, ঠোঁট বা গালে অসাড়তা বা জ্বালাপোড়া
- গিলতে বা কথা বলতে সমস্যা
- ঘাড়ে বা গলায় লাম্প (লসিকা গ্রন্থি ফোলা)
মনে রাখবেন, এসব লক্ষণ থাকলেই যে ক্যান্সার, তা নয়। তবে বায়োপসি করে নিশ্চিত হওয়া সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
বায়োপসির প্রকারভেদ: কোনটি আপনার জন্য?
মুখের ঘা বা টিউমারের জন্য বিভিন্ন ধরনের বায়োপসি করা হয়। আপনার জন্য কোনটি উপযুক্ত, তা চিকিৎসক ক্ষতের চেহারা ও অবস্থান দেখে ঠিক করবেন। নিচের টেবিলে প্রধান প্রকারভেদ তুলে ধরা হলো:
| বায়োপসির ধরণ | কীভাবে নমুনা নেওয়া হয় | কখন ব্যবহার করা হয় |
|---|---|---|
| ইনসিশনাল বায়োপসি | ক্ষতের কিছু অংশ কেটে নেওয়া হয় | বড় বা ছড়িয়ে থাকা ক্ষতের জন্য; সন্দেহজনক এলাকা থেকে নমুনা নেওয়া হয় |
| এক্সিশনাল বায়োপসি | পুরো ক্ষত বা টিউমারটি অপসারণ করা হয় | ছোট সন্দেহজনক ক্ষতের জন্য; একসঙ্গে নির্ণয় ও চিকিৎসা হয় |
| ফাইন নিডেল অ্যাসপিরেশন (এফএনএ) | সূক্ষ্ম সুই দিয়ে কোষ বা তরল টেনে নেওয়া হয় | গভীর টিউমার বা লসিকা গ্রন্থির জন্য; মুখের ভেতরে কম ব্যবহৃত হয় |
| ব্রাশ বায়োপসি | ব্রাশ দিয়ে ক্ষতের পৃষ্ঠ থেকে কোষ সংগ্রহ করা হয় | লিউকোপ্লাকিয়া বা সাদা দাগের প্রাথমিক স্ক্রিনিংয়ে |
মুখের ঘা বা টিউমারের জন্য সাধারণত ইনসিশনাল বা এক্সিশনাল বায়োপসি বেশি করা হয়।
বায়োপসি প্রক্রিয়া: কীভাবে করা হয়?
বায়োপসি নিতে সাধারণত ১৫-৩০ মিনিট সময় লাগে। প্রক্রিয়াটি নিম্নরূপ:
- প্রস্তুতি: রক্ত পাতলা করে এমন ওষুধ (যেমন অ্যাসপিরিন, ওয়ারফারিন) খেলে ডাক্তারকে আগেই জানাতে হবে। প্রয়োজনে ওষুধ বন্ধ রাখতে হতে পারে। খাওয়ার কোনো বিধিনিষেধ নেই।
- অ্যানেস্থেশিয়া: ক্ষতের চারপাশে স্থানীয় অ্যানেস্থেশিয়ার ইনজেকশন দেওয়া হয়, ফলে ওই অংশ সম্পূর্ণ অসাড় হয়ে যায়। আপনি জেগেই থাকবেন।
- নমুনা সংগ্রহ: ডাক্তার প্রকারভেদ অনুযায়ী অল্প টিস্যু কেটে বা সুই দিয়ে নমুনা নেন। কোনো ব্যথা হবে না, শুধু চাপ অনুভব হতে পারে।
- ক্ষতের যত্ন: নমুনা নেওয়ার জায়গায় ছোট সেলাই দেওয়া হতে পারে, যা কিছুদিন পর নিজেই গলে যায় বা ডাক্তার তুলে দেন। সাধারণত তুলো চেপে রক্তপাত বন্ধ করা হয়।
- ফলাফল: নমুনা প্যাথলজি ল্যাবে পাঠানো হয়। মাইক্রোস্কোপে পরীক্ষা করে রিপোর্ট তৈরি হয়, যা ৩-৭ দিনের মধ্যে পাওয়া যায়। দ্রুত ফলাফলের জন্য কিছু ল্যাবে ইমিউনোহিস্টোকেমিস্ট্রি (আইএইচসি) টেস্টও করা হয়, যা আরও সময় নেয়।
প্রক্রিয়ার পর সামান্য রক্তপাত বা ব্যথা হতে পারে, যা সাধারণত কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কমে যায়।
বায়োপসি ফলাফল: কী বোঝায়?
বায়োপসি রিপোর্টে প্রধানত তিন ধরনের ফলাফল হতে পারে:
- সৌম্য (বেনাইন): নমুনায় কোনো ক্যান্সার কোষ নেই। এটি ফাইব্রোমা, প্যাপিলোমা, বা অন্য সৌম্য টিউমার হতে পারে। চিকিৎসক প্রায়ই পুরো ক্ষত অপসারণের পরামর্শ দেন, তবে ক্যান্সারের কোনো ঝুঁকি নেই।
- প্রিক্যান্সারাস (ডিসপ্লাসিয়া): কোষে কিছু অস্বাভাবিক পরিবর্তন আছে যা ভবিষ্যতে ক্যান্সারে পরিণত হতে পারে। যেমন: লিউকোপ্লাকিয়া, এরিথ্রোপ্লাকিয়া। এক্ষেত্রে নিয়মিত নজরদারি ও প্রাথমিক চিকিৎসা জরুরি।
- ম্যালিগন্যান্ট (ক্যান্সারাস): নমুনায় ক্যান্সার কোষ পাওয়া গেছে। এটি স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা (মুখের সবচেয়ে সাধারণ ক্যান্সার) বা অন্য ধরনের হতে পারে। তখন দ্রুত অনকোলজিস্ট, ইএনটি বা ওরাল সার্জনের পরামর্শ নিতে হবে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করতে হবে।
ফলাফল নেগেটিভ মানে এই নমুনায় ক্যান্সার নেই, কিন্তু অন্য জায়গায় থাকতে পারে বা ভবিষ্যতে হতে পারে। তাই চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি।
বাংলাদেশে বায়োপসি টেস্টের খরচ (আনুমানিক)
বাংলাদেশের বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতালে বায়োপসির খরচ ল্যাবের মান, শহর, এবং পরীক্ষার জটিলতার ওপর নির্ভর করে। নিচে আনুমানিক মূল্য পরিসর দেওয়া হলো (২০২৫ সালের হিসাব):
| আইটেম | আনুমানিক মূল্য পরিসর (বিডিটি) | মন্তব্য |
|---|---|---|
| মৌলিক হিস্টোপ্যাথোলজি (টিস্যু পরীক্ষা) | ১,৫০০ – ৩,০০০ | সাধারণ ইনসিশনাল বা এক্সিশনাল বায়োপসির জন্য |
| সাইটোলজি (এফএনএ বা ব্রাশ) | ১,০০০ – ২,০০০ | এফএনএ বা ব্রাশ বায়োপসির জন্য |
| ইমিউনোহিস্টোকেমিস্ট্রি (আইএইচসি) | ৪,০০০ – ৮,০০০ | ক্যান্সারের ধরন ও মার্কার শনাক্ত করতে অতিরিক্ত পরীক্ষা |
| প্যাকেজ (বায়োপসি + আইএইচসি) | ৫,০০০ – ১০,০০০ | অনেক ল্যাবে কম্বো অফার থাকে |
সরকারি হাসপাতালে (যেমন ঢাকা মেডিকেল) খরচ অনেক কম, তবে সময় বেশি লাগতে পারে। দাম পরিবর্তনশীল, তাই নির্দিষ্ট ল্যাবে আগে যোগাযোগ করে জেনে নিন।
বায়োপসির ঝুঁকি ও সতর্কতা
বায়োপসি একটি নিরাপদ প্রক্রিয়া, তবে কিছু ঝুঁকি থাকতে পারে:
- রক্তপাত: নমুনার জায়গা থেকে সামান্য রক্তপাত হতে পারে, যা সাধারণত নিজে থেকেই বন্ধ হয়। প্রচণ্ড রক্তপাত হলে ডাক্তারকে জানান।
- সংক্রমণ: ক্ষতস্থান পরিষ্কার রাখুন। জ্বর, প্রচণ্ড ব্যথা বা পুঁজ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
- ব্যথা: অ্যানেস্থেশিয়ার প্রভাব কেটে গেলে সামান্য ব্যথা হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যথানাশক খেতে পারেন।
- ফোলা বা ক্ষত: কিছুদিন ফোলা থাকাটা স্বাভাবিক। তবে ফোলা বাড়লে বা শ্বাসকষ্ট হলে জরুরি বিভাগে যান।
কখন ডাক্তার দেখাবেন:
- বায়োপসি পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার বেশি রক্তপাত অব্যাহত থাকলে
- ক্ষতস্থান থেকে দুর্গন্ধযুক্ত পুঁজ বের হলে
- জ্বর ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি হলে
- খাবার গিলতে বা শ্বাস নিতে সমস্যা হলে
- মুখ বা ঘাড়ে অস্বাভাবিক ফোলা দেখা দিলে
এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
বিভাগ অনুযায়ী ডেন্টিস্ট ও ডেন্টাল ক্লিনিক
মুখের ঘা বা টিউমারের জন্য একজন বিশেষজ্ঞ ডেন্টিস্ট বা ওরাল ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জনের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। নিচে বিভাগভিত্তিক ডেন্টিস্ট ও ক্লিনিকের তালিকা দেওয়া হলো:
| বিভাগ | ডেন্টাল তালিকা |
|---|---|
| Dhaka | ঢাকায় ডেন্টিস্ট খুঁজুন |
| Chattogram | চট্টগ্রামে ডেন্টিস্ট খুঁজুন |
| Khulna | খুলনায় ডেন্টিস্ট খুঁজুন |
| Rajshahi | রাজশাহীতে ডেন্টিস্ট খুঁজুন |
| Rangpur | রংপুরে ডেন্টিস্ট খুঁজুন |
| Sylhet | সিলেটে ডেন্টিস্ট খুঁজুন |
| Barishal | বরিশালে ডেন্টিস্ট খুঁজুন |
| Mymensingh | ময়মনসিংহে ডেন্টিস্ট খুঁজুন |
আপনার এলাকার ডেন্টিস্ট খুঁজে সরাসরি অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
বায়োপসি করতে কি ব্যথা হয়? এটি কি স্থানীয় অ্যানেস্থেশিয়ায় করা হয়?
বায়োপসি সাধারণত স্থানীয় অ্যানেস্থেশিয়ার (নumbing injection) অধীনে করা হয়, তাই পরীক্ষার সময় তীব্র ব্যথা অনুভব করেন না। ইনজেকশন দেওয়ার সময় সামান্য চিমটি কাটার অনুভূতি হতে পারে, কিন্তু পরবর্তীতে ওই জায়গা অসাড় হয়ে যায়। প্রক্রিয়াটি মাত্র কয়েক মিনিট সময় নেয়। পরে ব্যথা বা ফোলা স্বাভাবিক, যা সাধারণ ব্যথানাশক ওষুধে নিয়ন্ত্রণে থাকে। তবে কোনো অস্বাভাবিক ব্যথা বা রক্তপাত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।
বায়োপসি করার আগে ও পরে কি কোনো বিশেষ প্রস্তুতি বা সতর্কতা আছে?
বায়োপসির আগে চিকিৎসককে আপনার রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা, ডায়াবেটিস, বা রক্ত পাতলা করার ওষুধ (যেমন অ্যাসপিরিন, ওয়ারফারিন) সম্পর্কে জানাবেন। প্রয়োজনে ওষুধ সাময়িক বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হতে পারে। পরীক্ষার পর অন্তত ২-৩ ঘণ্টা কিছু খাবেন না বা পান করবেন না, বিশেষ করে যদি বায়োপসি জিহ্বা বা গালের ভেতরে করা হয়। পরের ২৪ ঘণ্টা গরম ও মশলাদার খাবার এড়িয়ে চলুন। চিকিৎসক দাঁত ব্রাশ করা বা মুখ ধোয়ার নিয়মও বলে দেবেন। কোনো সেলাই থাকলে তা নিজে থেকে খুলবেন না—নির্ধারিত সময়ে চিকিৎসকের কাছে যান।
বায়োপসি রিপোর্টে ক্যান্সার ছাড়া আর কী কী ফলাফল আসতে পারে? সেটা কি সবসময় বিপজ্জনক?
বায়োপসি রিপোর্টে ক্যান্সার (ম্যালিগন্যান্ট) ছাড়াও অন্যান্য ফলাফল আসতে পারে, যেমন: সৌম্য টিউমার (বেনাইন, যেমন ফাইব্রোমা, প্যাপিলোমা), সংক্রমণজনিত প্রদাহ (যেমন ফাংগাল বা ব্যাকটেরিয়াল), বা অটোইমিউন রোগ (যেমন লাইকেন প্ল্যানাস)। অনেক ক্ষেত্রেই এগুলো মারাত্মক নয় এবং চিকিৎসায় সেরে যায়। এমনকি কিছু প্রাক-ক্যান্সারাস অবস্থা (ডিসপ্লাসিয়া) থাকলেও তা ক্যান্সার নয়, তবে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। রিপোর্ট হাতে পেলে চিকিৎসকই ব্যাখ্যা করবেন এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবেন। আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক চিকিৎসা নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।
তথ্যসূত্র
উপরের তথ্যসূত্রগুলো আন্তর্জাতিক জার্নাল, সরকারি স্বাস্থ্য সংস্থা বা স্বীকৃত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া:
- Mouth ulcers – NHS (nhs.uk)
- Mouth cancer – Symptoms and causes – Mayo Clinic (mayoclinic.org)
- Cancer fact sheet – WHO (who.int)
- World Health Organization — মুখের ঘা বা টিউমারের বায়োপসি টেস্ট (who.int)
- MedlinePlus — মুখের ঘা বা টিউমারের বায়োপসি টেস্ট (medlineplus.gov)
- CDC — মুখের ঘা বা টিউমারের বায়োপসি টেস্ট (cdc.gov)