Skip to content

জিহ্বায় ঘা হওয়ার কারণ?

জিহ্বায় ঘা হওয়ার কারণ?
Rate this post

জিহ্বায় ঘা দেখা দিলে অনেকেই আতঙ্কিত হন, কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি গুরুতর নয়। জিহ্বার ঘা বিভিন্ন কারণে হতে পারে—সাধারণ যান্ত্রিক আঘাত থেকে শুরু করে পুষ্টির অভাব বা সংক্রমণ। এই নিবন্ধে আমরা জিহ্বায় ঘা হওয়ার সাধারণ কারণগুলো এবং কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন তা নিয়ে আলোচনা করব।

জিহ্বায় ঘা কেন হয়? সাধারণ কারণগুলোর পরিচিতি

জিহ্বার ঘা (tongue ulcer বা sore) অনেক সাধারণ কারণে হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে দাঁতের ধারালো অংশে ঘষা লেগে জ্বালা, ভুল করে জিহ্বা কামড় দেওয়া, অতিরিক্ত গরম খাবার বা পানীয়তে পুড়ে যাওয়া, ভিটামিন ও খনিজের অভাব, ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ, এবং কিছু অটোইমিউন অবস্থা। বেশিরভাগ ঘা নিজে থেকেই কয়েক দিন থেকে এক সপ্তাহের মধ্যে সেরে যায়। তবে কিছু ঘা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে তা অন্তর্নিহিত রোগের ইঙ্গিত দিতে পারে। তাই কারণ বুঝে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

যান্ত্রিক আঘাত ও জ্বালা: দাঁতের ধার, কামড়, গরম খাবার

জিহ্বায় ঘা হওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো যান্ত্রিক আঘাত বা জ্বালা। যেমন:

  • দাঁতের ধারালো অংশ: ভাঙা দাঁত, ধারালো ফিলিং বা ব্রিজ জিহ্বায় ঘষা লেগে ঘা তৈরি করতে পারে।
  • জিহ্বা কামড়ানো: খাওয়ার সময় বা ঘুমের মধ্যে জিহ্বা কামড় দিলে ঘা হতে পারে।
  • গরম খাবার বা পানীয়: খুব গরম চা, কফি বা খাবার জিহ্বা পুড়িয়ে দিতে পারে, যা ফোসকা বা ঘা হিসেবে দেখা দেয়।
  • ধাতব বা প্লাস্টিকের ধার: ব্রেস, রিটেইনার বা অন্য কোনো ডেন্টাল অ্যাপ্লায়েন্স জ্বালা করলে ঘা হতে পারে।

এই ধরনের ঘা সাধারণত ব্যথাদায়ক হলেও দ্রুত সেরে যায়। আঘাত এড়াতে সতর্ক থাকা এবং দাঁতের ধারালো অংশ মসৃণ করার জন্য ডেন্টিস্টের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

পুষ্টির অভাবে কি জিহ্বায় ঘা হতে পারে?

হ্যাঁ, পুষ্টির অভাব জিহ্বায় ঘা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে নিচের পুষ্টি উপাদানের অভাবে ঘা দেখা দেওয়া সাধারণ:

  • ভিটামিন বি১২: এই ভিটামিনের অভাবে জিহ্বা লাল, ফোলা ও ঘা হতে পারে।
  • আয়রন (লোহা): আয়রনের অভাবে জিহ্বার স্বাদকোরক পরিবর্তিত হয়ে ঘা হতে পারে।
  • ফলিক অ্যাসিড (ভিটামিন বি৯): ফলিক অ্যাসিডের অভাবে মুখের আলসার দেখা দিতে পারে।
  • জিঙ্ক: জিঙ্কের অভাবে জিহ্বার স্বাদ নেওয়ার ক্ষমতা কমে যেতে পারে এবং ঘা হতে পারে।

পুষ্টির অভাব পূরণ করতে সুষম খাদ্য গ্রহণ করা জরুরি। তবে কোনো সাপ্লিমেন্ট শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। দীর্ঘস্থায়ী ঘা থাকলে রক্ত পরীক্ষা করে ভিটামিন ও মিনারেল লেভেল যাচাই করা যেতে পারে।

সংক্রমণজনিত কারণ: ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস

জিহ্বায় ঘা সংক্রমণের কারণেও হতে পারে। কয়েকটি সাধারণ সংক্রমণ হলো:

  • ওরাল থ্রাশ (ফাঙ্গাল ইনফেকশন): ক্যান্ডিডা ফাঙ্গাসের সংক্রমণে জিহ্বায় সাদা বা হলুদ রঙের ঘা দেখা দিতে পারে। এটি সাধারণত দুর্বল ইমিউন সিস্টেম বা অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলে হয়।
  • হারপিস সিমপ্লেক্স (ভাইরাল ইনফেকশন): হারপিস ভাইরাস জিহ্বা ও মুখের ভেতরে ব্যথাদায়ক ফোসকা তৈরি করতে পারে। এটি সাধারণত চাপ, অসুস্থতা বা রোদে পোড়ার কারণে সক্রিয় হয়।
  • ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন: কিছু ব্যাকটেরিয়া জিহ্বার টিস্যুতে সংক্রমণ ঘটিয়ে ঘা তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে যদি আগে থেকে কোনো ক্ষত থাকে।

সংক্রমণজনিত ঘা সাধারণত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ বা অ্যান্টিফাঙ্গাল ক্রিম দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। নিজে থেকে ওষুধ খাওয়া উচিত নয়।

কখন ডাক্তার দেখানো জরুরি? সতর্কবার্তা ও পরবর্তী পদক্ষেপ

বেশিরভাগ জিহ্বার ঘা নিজে থেকেই সেরে যায়, তবে কিছু লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। নিচের টেবিলটি সাধারণ ঘা ও সতর্কতাজনক ঘা-এর পার্থক্য বুঝতে সাহায্য করবে:

বৈশিষ্ট্য সাধারণ ঘা (নিজে সারে) সতর্কতাজনক ঘা (ডাক্তার দেখানো জরুরি)
স্থায়িত্ব কয়েক দিন থেকে ১ সপ্তাহ ২ সপ্তাহের বেশি স্থায়ী
ব্যথা সাধারণত ব্যথাদায়ক ব্যথাহীন বা অস্বাভাবিক ব্যথা
আকার ও আকৃতি ছোট, গোলাকার বা ডিম্বাকার বড়, অনিয়মিত আকার বা শক্ত প্রান্ত
রং লাল বা সাদা গাঢ় লাল, কালো বা নীলচে
অন্যান্য লক্ষণ শুধু ঘা জ্বর, গলা ব্যথা, ওজন কমে যাওয়া, ফোলা লিম্ফ নোড

যদি আপনার ঘা ২ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে না সারে, অথবা ঘাটি ব্যথাহীন ও শক্ত হয়, তাহলে দ্রুত একজন চিকিৎসকের (ডেন্টিস্ট বা মেডিসিন বিশেষজ্ঞ) পরামর্শ নিন। তিনি প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কারণ নির্ণয় করতে পারবেন। মনে রাখবেন, দীর্ঘস্থায়ী ঘা কখনো কখনো গুরুতর রোগের ইঙ্গিত দিতে পারে, তাই অবহেলা না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উত্তম।

ঘরোয়া যত্ন ও প্রতিরোধ: করণীয় ও বর্জনীয়

জিহ্বায় ঘা হলে কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি ব্যথা কমাতে ও দ্রুত সারাতে সাহায্য করতে পারে। তবে গুরুতর বা দীর্ঘস্থায়ী ঘা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

করণীয়:

  • হালকা গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে দিনে ২-৩ বার কুলি করুন। এটি ঘা পরিষ্কার রাখতে ও সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করে।
  • ঠাণ্ডা বা নরম খাবার খান, যেমন দই, স্মুদি, আলু সেদ্ধ। গরম, মসলাদার বা টক খাবার এড়িয়ে চলুন।
  • ঘা যদি দাঁতের ধারালো অংশের কারণে হয়, তাহলে ডেন্টিস্টের কাছে গিয়ে দাঁত মসৃণ করে নিন।
  • ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ খাবার খান, বিশেষ করে শাকসবজি, ফলমূল, দুধ, ডিম, মাছ ইত্যাদি।
  • পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং মুখের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।

বর্জনীয়:

  • ঘা নিজে থেকে ফোঁড়া বা চেপ্টা করার চেষ্টা করবেন না।
  • অ্যালকোহল বা তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করবেন না, কারণ এগুলো জ্বালা বাড়াতে পারে ও সেরে ওঠা ধীর করে।
  • কোনো ওষুধ বা ক্রিম নিজে থেকে ব্যবহার করবেন না; চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নয়।

বিভাগ অনুযায়ী ডেন্টাল ক্লিনিক

আপনার এলাকায় ডেন্টাল ক্লিনিক খুঁজতে নিচের তালিকা দেখুন:

বিভাগ ডেন্টাল ক্লিনিক তালিকা
Dhaka ঢাকায় ডেন্টাল ক্লিনিক খুঁজুন
Chattogram চট্টগ্রামে সেরা ডেন্টাল ক্লিনিক
Khulna খুলনায় যাচাইকৃত ডেন্টাল ক্লিনিক
Rajshahi রাজশাহীতে সেরা ডেন্টাল ক্লিনিক
Rangpur রংপুরে ডেন্টাল ক্লিনিক খুঁজুন
Sylhet সিলেটে ডেন্টাল ক্লিনিক খুঁজুন
Barishal বরিশালে সেরা ডেন্টাল ক্লিনিক
Mymensingh ময়মনসিংহে যাচাইকৃত ডেন্টাল ক্লিনিক

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

জিহ্বার ঘা কি মুখের ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে?

বেশিরভাগ জিহ্বার ঘা নিরীহ এবং কিছু দিনেই সেরে যায়। তবে ২–৩ সপ্তাহের বেশি ধরে না সেরা, ঘা শক্ত হয়ে যাওয়া, ব্যথাহীন ঘা, কিংবা ক্রমাগত বড় হওয়া ঘা মুখের ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দেরি না করে একজন ENT বিশেষজ্ঞ বা ডেন্টাল সার্জনের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। তবে মনে রাখবেন, জিহ্বার সব ঘাই ক্যানসার নয়।

জিহ্বার সাধারণ ঘা কত দিনে সেরে যায়?

সাধারণ যান্ত্রিক আঘাত বা ছোট ঘা সাধারণত ৭–১৪ দিনের মধ্যে নিজে নিজে ভালো হয়ে যায়। যদি ৩ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ঘা না সারে, অথবা একই স্থানে বারবার ঘা ফিরে আসে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বারবার জিহ্বায় ঘা হয় কেন? এটি কি কোনো রোগের ইঙ্গিত?

ঘন ঘন জিহ্বার ঘা হওয়ার পেছনে দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ, ভিটামিন বি১২, ফোলেট বা আয়রনের অভাব, নির্দিষ্ট খাবারে অ্যালার্জি এবং কিছু অটোইমিউন অবস্থা দায়ী হতে পারে। কখনো কখনো এটি বেহসেট ডিজিজ বা প্রদাহজনক অন্ত্রের রোগের সাথেও যুক্ত থাকতে পারে। তাই ঘন ঘন ঘা হলে একজন চিকিৎসকের পরামর্শে প্রয়োজনীয় রক্ত পরীক্ষা করানো ভালো।

জিহ্বার ঘা কি অন্য কারও মধ্যে ছড়াতে পারে?

সাধারণ জিহ্বার ঘা (অ্যাফথাস আলসার) সংক্রামক নয়। তবে ঘা যদি হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস বা অন্য কোনো সংক্রমণের কারণে হয়, সেক্ষেত্রে এটি ছোঁয়াচে হতে পারে। ঘার সাথে ফোসকা, জ্বর বা লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়ার মতো লক্ষণ থাকলে ডাক্তার দেখানো জরুরি।

জিহ্বায় ঘা হলে কী কী খাবার এড়িয়ে চলা ভালো?

মশলাদার, টক বা আম্লিক, অতিরিক্ত গরম এবং শক্ত বা খসখসে খাবার জিহ্বার ঘায়ে জ্বালা বাড়াতে পারে, তাই এগুলো এড়িয়ে চলা ভালো। নরম ও আরামদায়ক খাবার যেমন দুধ, দই, স্যুপ, ডিমের পুডিং, কলা বা ঠান্ডা খাবার গ্রহণ করা সহনীয় হতে পারে। তবে খাবার মানে শুধু উপশম নয়—ঘা দীর্ঘস্থায়ী বা বারবার হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

তথ্যসূত্র

উপরের তথ্যসূত্রগুলো আন্তর্জাতিক জার্নাল, সরকারি স্বাস্থ্য সংস্থা বা স্বীকৃত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া:

Rate this post