Skip to content

দাঁতের সংক্রমণ থেকে শরীরে জ্বর হয় কেন?

দাঁতের সংক্রমণ থেকে শরীরে জ্বর হয় কেন?
Rate this post

অনেকেরই দাঁতের ব্যথার পাশাপাশি জ্বর আসলে মনে প্রশ্ন জাগে—এটা কি স্বাভাবিক? দাঁতের সংক্রমণ থেকে কি সত্যিই জ্বর হতে পারে? এই নিবন্ধে আমরা সহজ ভাষায় বুঝব কেন দাঁতের সংক্রমণ জ্বরের কারণ হতে পারে, কীভাবে এটি ঘটে এবং এই অবস্থায় কী করা উচিত।

দাঁতের সংক্রমণ কীভাবে জ্বর সৃষ্টি করে?

দাঁতের ভেতর বা মাড়িতে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ করলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা (ইমিউন সিস্টেম) সক্রিয় হয়। এটি সাইটোকাইন নামক প্রোটিন নিঃসরণ করে, যা পাইরোজেন হিসেবে কাজ করে এবং মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাসে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রকে প্রভাবিত করে। ফলে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায় এবং জ্বর আসে।

সংক্রমণ যদি স্থানীয় হয় তবে মৃদু জ্বর হতে পারে, কিন্তু যদি ব্যাকটেরিয়া রক্তে ছড়িয়ে পড়ে (ব্যাকটেরেমিয়া) তবে উচ্চ জ্বর ও অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এই প্রক্রিয়াটি শরীরের একটি স্বাভাবিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, তবে এটি ইঙ্গিত দেয় যে সংক্রমণ গুরুতর হতে পারে।

কোন ধরনের দাঁতের সমস্যায় জ্বর আসার সম্ভাবনা বেশি?

সব দাঁতের ব্যথা বা সংক্রমণে জ্বর হয় না। তবে কিছু নির্দিষ্ট সমস্যায় জ্বর আসার ঝুঁকি বেশি:

  • দাঁতের ফোঁড়া (ডেন্টাল অ্যাবসেস): দাঁতের ভেতর পুঁজ জমলে সংক্রমণ দ্রুত ছড়াতে পারে।
  • আক্কেল দাঁতের সংক্রমণ (পেরিকোরোনাইটিস): আক্কেল দাঁত ওঠার সময় মাড়ির সংক্রমণ থেকে জ্বর হতে পারে।
  • ড্রাই সকেট: দাঁত তোলার পর জটিলতা দেখা দিলে সংক্রমণ ও জ্বর হতে পারে।
  • গভীর ক্যাভিটি: দাঁতের স্নায়ুতে পৌঁছে গেলে সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
  • মাড়ির সংক্রমণ (পিরিওডোন্টাইটিস): দীর্ঘমেয়াদি মাড়ির রোগও জ্বরের কারণ হতে পারে।

উপরের সমস্যাগুলো থাকলে দ্রুত ডেন্টিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

জ্বর আসা মানেই কি সংক্রমণ ছড়িয়েছে?

সবসময় নয়। স্থানীয় প্রদাহের কারণেও মৃদু জ্বর হতে পারে। তবে জ্বর আসা মানে শরীর সক্রিয়ভাবে প্রতিক্রিয়া করছে। যদি জ্বর বেশি হয় (১০১°F এর উপরে) বা অন্যান্য উপসর্গ যেমন মুখ ফোলা, গিলতে অসুবিধা থাকে, তবে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা বেশি। দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।

মৃদু জ্বর (১০০°F এর নিচে) সাধারণত স্থানীয় সংক্রমণের কারণে হতে পারে এবং এটি নিজে থেকে সেরে যেতে পারে। কিন্তু উচ্চ জ্বর বা ক্রমবর্ধমান জ্বর উপেক্ষা করা উচিত নয়।

দাঁতের সংক্রমণজনিত জ্বরের সাথে কী কী লক্ষণ দেখা দিতে পারে?

জ্বর ছাড়াও নিচের লক্ষণগুলো থাকলে দ্রুত ডেন্টিস্ট দেখা জরুরি:

  • মুখ বা চোয়াল ফোলা
  • গিলতে অসুবিধা বা গলায় ব্যথা
  • দাঁতে তীব্র ব্যথা
  • মুখে দুর্গন্ধ বা পুঁজের গন্ধ
  • ঠাণ্ডা লাগা বা কাঁপুনি
  • চোয়াল শক্ত হয়ে যাওয়া

এসব লক্ষণ থাকলে বোঝা যায় সংক্রমণ শুধু দাঁতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং আশপাশের টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়ছে।

জ্বর এলে কী করবেন—এবং কী করবেন না?

দাঁতের সংক্রমণজনিত জ্বর এলে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। নিচের টেবিলে জ্বরের মাত্রা অনুযায়ী করণীয় দেখানো হলো:

জ্বরের তাপমাত্রা (প্রায়) কী বোঝায় কী করা উচিত
১০০°F এর নিচে স্থানীয় প্রদাহ, সংক্রমণ ছড়ায়নি বিশ্রাম ও তরল পান; ডেন্টিস্ট দেখান
১০০-১০১°F সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভাবনা ডেন্টিস্টের পরামর্শ নিন; প্রয়োজনে প্যারাসিটামল খান (চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত নয়)
১০১°F এর উপরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে, সেপসিসের ঝুঁকি জরুরি ভিত্তিতে ডেন্টিস্ট বা চিকিৎসক দেখুন

করণীয়:

  • ডেন্টিস্টের পরামর্শ নিন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করান।
  • পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন ও প্রচুর তরল পান করুন।
  • ফোলা জায়গায় ঠাণ্ডা সেঁক দিতে পারেন।

করণীয় নয়:

  • নিজে নিজে অ্যান্টিবায়োটিক খাবেন না—এটি সংক্রমণ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
  • গরম সেঁক দেবেন না, এটি সংক্রমণ ছড়াতে সাহায্য করতে পারে।
  • ব্যথানাশক ওষুধের অপব্যবহার করবেন না।
  • জ্বর উপেক্ষা করবেন না—দ্রুত চিকিৎসা নিন।

বিভাগ অনুযায়ী ডেন্টিস্ট ও ডেন্টাল ক্লিনিক

আপনার বিভাগে ডেন্টিস্ট খুঁজতে নিচের তালিকা দেখুন:

বিভাগ ডেন্টাল তালিকা
Dhaka ঢাকায় যাচাইকৃত ডেন্টিস্ট
Chattogram চট্টগ্রামে জনপ্রিয় ডেন্টিস্ট
Khulna খুলনায় যাচাইকৃত ডেন্টিস্ট
Rajshahi রাজশাহীতে জনপ্রিয় ডেন্টিস্ট
Rangpur রংপুরে যাচাইকৃত ডেন্টিস্ট
Sylhet সিলেটে ডেন্টিস্ট খুঁজুন
Barishal বরিশালে ডেন্টিস্ট
Mymensingh ময়মনসিংহে দাঁতের ডাক্তার

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

দাঁতের সংক্রমণের জ্বর কি সাধারণ জ্বর থেকে আলাদা করে চেনা যায়?

দাঁতের সংক্রমণজনিত জ্বর সাধারণ ভাইরাল বা ব্যাকটেরিয়াল জ্বরের মতোই হতে পারে—তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া, শরীর ব্যথা, ক্লান্তি। তবে এর সাথে সাধারণত দাঁত বা মাড়িতে প্রচণ্ড ব্যথা, ফোলা, চিবালে বা গরম-ঠান্ডায় কষ্ট, এবং অনেক সময় মুখ ফুলে যাওয়া থাকে। শুধু জ্বর দেখে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়; দাঁতের অন্য কোনো লক্ষণ না থাকলেও সংক্রমণের উৎস দাঁত হতে পারে। সঠিক রোগ নির্ণয়ের জন্য ডেন্টাল এক্স-রে ও ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা প্রয়োজন।

দাঁতের সংক্রমণের জ্বর কত দিন স্থায়ী হতে পারে এবং কখন উদ্বেগজনক?

চিকিৎসা না করালে দাঁতের সংক্রমণের জ্বর কয়েক দিন থেকে এক সপ্তাহ বা তার বেশি স্থায়ী হতে পারে এবং প্রায়ই বাড়তে থাকে। অ্যান্টিবায়োটিক ও ডেন্টাল চিকিৎসা শুরু করার পর সাধারণত ২৪–৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জ্বর কমতে শুরু করে। যদি জ্বর ৩ দিনের বেশি থাকে, তীব্রতা বাড়ে, অথবা সঙ্গে শ্বাস নিতে কষ্ট, গিলতে সমস্যা, চোখ বা ঘাড় ফুলে যায়—তবে দ্রুত জরুরি বিভাগে যাওয়া জরুরি। মনে রাখবেন, জ্বর কমলেও মূল সংক্রমণ রয়ে যেতে পারে, তাই দাঁতের চিকিৎসা চালিয়ে যান।

প্যারাসিটামল বা আইবুপ্রোফেন খেলে কি দাঁতের সংক্রমণের জ্বর ও ব্যথা একসঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করা যায়?

প্যারাসিটামল বা আইবুপ্রোফেন অস্থায়ীভাবে জ্বর ও ব্যথা কমাতে পারে। আইবুপ্রোফেনের প্রদাহ কমানোর ক্ষমতা থাকায় দাঁতের ফোলা ও ব্যথার জন্যও কিছুটা উপশম দিতে পারে। তবে এগুলো সংক্রমণ নিরাময় করে না—ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে পারে না। শুধু ওষুধ দিয়ে জ্বর ও ব্যথা লুকিয়ে রাখলে বিপদ বাড়তে পারে, কারণ সংক্রমণ ভেতরে ভেতরে ছড়াতে থাকে। তাই ব্যথানাশক সেবনের পরও যত দ্রুত সম্ভব ডেন্টিস্টের কাছে যাওয়া আবশ্যক।

গর্ভাবস্থায় দাঁতের সংক্রমণ থেকে জ্বর হলে কী করবেন?

গর্ভাবস্থায় দাঁতের সংক্রমণের জ্বর উপেক্ষা করা উচিত নয়, কারণ সংক্রমণ মা ও শিশু উভয়ের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। প্রথমেই ডেন্টিস্ট ও গাইনোকোলজিস্ট—উভয়ের সঙ্গেই পরামর্শ করে নিন। গর্ভাবস্থায় নিরাপদ অ্যান্টিবায়োটিক (যেমন Amoxicillin) ও ব্যথানাশক (যেমন Paracetamol) ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে তা চিকিৎসকের সিদ্ধান্তে। দাঁতের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা (যেমন রুট ক্যানেল বা এক্সট্রাকশন) গর্ভাবস্থার দ্বিতীয় ট্রাইমেস্টারে সাধারণত নিরাপদ। নিজে থেকে কোনো ওষুধ খাবেন না, বিশেষ করে আইবুপ্রোফেন তৃতীয় ট্রাইমেস্টারে নিষেধ।

দাঁতের সংক্রমণের জ্বর কি নিজে নিজে সেরে যেতে পারে?

খুবই বিরল ক্ষেত্রে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বেশি থাকলে ছোট সংক্রমণ কিছুদিনে নিজে নিজে সেরে যেতে পারে, কিন্তু দাঁতের সংক্রমণ সাধারণত নিজে থেকে পুরোপুরি ভালো হয় না। ব্যাকটেরিয়া দাঁতের ভেতরের নরম টিস্যু (পাল্প) বা মাড়ির পকেটে আশ্রয় নেয়, যেখানে রক্ত চলাচল কম—ইমিউন সিস্টেম একা সেখানে পুরোপুরি আক্রমণ করতে পারে না। জ্বর কমে গেলেই বুঝবেন না যে সংক্রমণ শেষ; এটি আরও গভীরে ছড়িয়ে চোয়ালের হাড় বা রক্তে সেপসিস সৃষ্টি করতে পারে। তাই দাঁতের সংক্রমণের জ্বর হলে চিকিৎসা না নিয়ে বসে থাকা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।

তথ্যসূত্র

উপরের তথ্যসূত্রগুলো আন্তর্জাতিক জার্নাল, সরকারি স্বাস্থ্য সংস্থা বা স্বীকৃত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া:

Rate this post